স্টাফ রিপোর্টার
খুলনা : দরজায় কড়া নাড়ছে মুসলিম সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় বড় উৎসব ঈদুল আযহা। শেষ মূহুর্তে গরুর হাট, মার্কেট ও শপিংমলে ক্রেতাদের ভিড়ে লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠেছে সর্বত্র। এদিকে হঠাৎ করেই দেশব্যাপী করোনা শনাক্ত ও মৃত্যু বৃদ্ধি পেলেও খুলনায় স্বাস্থ্যবিধিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে করোনা ঝুঁকিকে যেন পায়ে মাড়িয়ে চলছে সবার বিচরণ!
শনিবার (০৯ জুলাই) খুলনার সর্ববৃহৎ পশুর হাট খ্যাত জােড়াগেট হাট, খর্ণিয়া পশুর হাট, আঠার মাইল গরুর হাট, ফুলবাড়িগেট গরুর হাট, ফুলতলা গরুর হাট, রূপসা পশুর হাট ও মার্কেটপাড়া খ্যাত খুলনা নগরীর নিউ মার্কেট, শপিং কমপ্লেক্স, জলিল টাওয়ার, হকার্স মার্কেট, শিববাড়ী মোড়স্থ ব্রান্ডেড শোরুম, সোনাডাঙ্গার শো-রুম, ডাকবাংলা মোড়, রেলওয়ে মার্কেট, পিকচার প্যালেস মোড়, বড় বাজার, মশিউর রহমান মার্কেট, কবি কাজী নজরুল ইসলাম মার্কেট, দরবেশ চেম্বার, নান্নু সুপার মার্কেট, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মার্কেট, এস এম এ রব মার্কেট, হাজী মালেক চেম্বার, নূর চেম্বার, এশা চেম্বার, আড়ং, অঞ্জনস ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি মার্কেট এলাকা ও বিপনী বিতানগুলোতে ঈদুল আযহার আমেজ বইছে।
হাটে ঘুরে দেখা যায়, সব ধরণের ক্রেতা সমাগমে মুখরিত হয়ে উঠেছে গরু ছাগলের হাটপাড়া ও দোকানপাট। শেষ মূহুর্তে বেচাকেনায়ও যেনো ধুম পরেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আর ঈদ উপলক্ষে শপিং করতে হাজারো মানুষের ঢলে ঠাসা খুলনার পশুর হাট। নেই কোনো স্বাস্থ্যবিধি, নেই কোনো সচেতনতা। সঠিকভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানতেও দেখা যায়নি কাউকেই। স্বাস্থ্যবিধি তো দূরের কথা এমনকি মাস্কও পরেনি অধিকাংশই।
নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়ে খুলনার বিএল কলেজের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার কবির বলেন, সকাল থেকে কয়েকটি মার্কেটে ঘুরলাম কিছু ঈদ শপিংয়ের জন্য। শপিং তো করেছি, তবে মনের ভেতরে ভয় ঢুকে গেছে। কারণ হঠাৎ করে বাড়ছে করোনার প্রকোপ। কারো মুখে মাস্ক দেখলাম না, স্বাস্থ্যবিধি মানা তো দূরের কথা। ঈদের পরে করোনার স্প্রেড বাড়বে বলে মনে হচ্ছে, এখন যারা সংক্রমিত হবে তা বোঝা যাবে ঈদের পরে। জানিনা ঈদের পরে কি হতে পারে।
খুুলনার ইকবাল নগর এলাকার বাসিন্দা সাগর খান বলেন, নগরীর জোড়াগেট পশুর হাটের ভেতরে যে ভিড় দেখলাম, তা সত্যিই এই পরিস্থিতিতে গা শিউরে ওঠার মতো। এত জনসমাগম হলে করোনা ভাইরাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার অাশংকা তো থাকেই। তার উপরে কেউই মাস্ক পরছেনা।
এদিকে নগরীর বড় বাজার এলাকার ভেতরেও প্রায় একই চিত্র। ভিড়ের মধ্যে দোকানে দোকানে ঘুরে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনছেন ক্রেতারা। কাউকে দেখে মনেই হচ্ছেনা বর্তমান সময়টি করোনা মহামারির। করোনার হঠাৎ উর্ধ্বমূখী সংক্রমণ থেকে বাঁচতে এবং সুস্থ থাকতে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব একেবারেই উপেক্ষিত। প্রায় সব দোকানদার ও ক্রেতারাই মাস্ক ব্যবহার করছেনা। পুরো চিত্র দেখে মনে হচ্ছে, করোনা ভয়াবহতা সবাই ভুলে গেছে। স্বাভাবিক অবস্থায় থাকা নগরী যে পুনরায় করোনার ভয়বহতা দেখতে পারে তা যেনো সবাই বেমালুম ভুলে গেছে।
খুলনা বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডাঃ মোঃ মনজুর মোর্শেদ বলেন, যে গতিতে করোনা শনাক্ত বাড়ছে এমতাবস্থায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা দরকার, অবশ্যই মাস্ক বাধ্যতামূলক করা দরকার, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা দরকার এবং টিকা গ্রহণে আগ্রহী হওয়া দরকার।
খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাদিকুর রহমান খান জানান, যখন থেকে কোরবাণীর হাট শুরু হয়েছে তার আগেই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিলো স্ব স্ব উপজেলা নির্বাহী অফিসার, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ও সিভিল সার্জনের সমন্বয়ে একটি মনিটরিং সেল থাকবে। যারা হাটে আসবে তারা যেনো বাধ্যতামূলক মাস্ক পরিধান করে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে। তবে অধিকাংশ স্থানেই সাধারণ মানুষ টিকার বুস্টার ডোজ গ্রহণ করায় তাদের ভেতরে একটি কনফিডেন্স লেভেল তৈরি হয়েছে, যে কারণে সবক্ষেত্রে বিশেষত গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যবিধি মানছেনা। তবে এখন উৎসবের সময়ে জেলা প্রশাসন আইন প্রতিপালন ও সচেতনতা দুই বিষয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
খুলনা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা: সাদিয়া মনোয়ারা ঊষা বলেন, গত এক সপ্তাহে খুলনায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। সেই তুলনায় বাড়েনি সচেতনতা। নতুন নতুন স্ট্রেন ও সময়ের সাথে কার্যকারিতা হারাচ্ছে টিকা। সাধারণ মানুষ বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষেরা নমুনা দেওয়ার প্রতি উদাসীন। করোনার সময়কার সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রতি এই উদাসীনতা সামনে উৎসবের দিনগুলোতে করোনার চতুর্থ ঢেউয়ে আরো পরিসংখ্যান বাড়াতে পারে।
তিনি আরো জানান, বর্তমানে হাসপাতালে সব রকমের প্রস্তুতি রয়েছে। সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন অক্সিজেন সিলিন্ডার অক্সিজেন কন্সেন্ট্রেটর পর্যাপ্ত আইসিইউ বেড, হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা রয়েছে। কোরবানির উৎসবের দিনগুলোতে অবশ্যই সচেতনতা জরুরী। একটু জ্বর হলেই সতর্ক থাকতে হবে। আপাতত হাসপাতালে রোগীর চাপ কম পরিসংখ্যান অনুযায়ী।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন পরে খুলনায় গত ১৭ জুন আবারো করোনা শনাক্ত হয়েছে। এরপর থেকে প্রতিদিনই জেলায় করোনা রোগী বাড়ছে, সাথে ঘরে ঘরে চলছে জ্বর-শর্দি-কাশির হিড়িক। তবুও জনগনের মাঝে দেখা যাচ্ছে না কোনো সচেতনতা।
এমআই/এএপি
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত