মৃদু থেকে হঠাতই যেন তীব্র শীতে কাপছে দেশের দক্ষিণের শহর খুলনা। ইতোমধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে বইছে শীতের হিমেল হাওয়া। শান্ত নগরী খুলনায় শীত বেশ ভালোভাবেই জেঁকে বসেছে। প্রচন্ড শীত কাবু করে ফেলেছে সবাইকে। স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন।
আর শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গরম কাপড়ের চাহিদা। নগরীর বড় দোকান থেকে শুরু করে ফুটপাতের দোকানেও সমানতালে চলছে শীতের পোশাক বিক্রির হিড়িক। সপ্তাহখানেক আগে থেকে বেচা বিক্রিও জমতে শুরু করেছে হয়েছে। শপিং মলের সাথে পাল্লা দিয়ে ফুটপাতে শীতের কাপড়ের বেচাকেনা চলছে পুরোদমে।

বিকাল থেকে রাত অবধি বিক্রেতাদের হাঁকডাকে জমজমাট হয়ে উঠেছে রাজধানীর ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলো। শনিবার (৪ জানুয়ারি) খুলনার শিববাড়ি, নিউমার্কেট ,ডাকবাংলো ,ফুটপাত ও শপিং মলে এমন চিত্র দেখা যায়।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, নিম্নবিত্ত ও স্বল্প আয়ের মানুষের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষেরাও শীতবস্ত্র কিনতে ফুটপাতের দোকানে ভিড় করছেন। শীতের জ্যাকেট, চাদর, গেঞ্জি, হুডি, মাফলার, পুরনো কমফোর্টার, হাতমোজা, কান-টুপিসহ সবধরনের শীতবস্ত্রই মিলছে এসব দোকানে। অনেক দোকানে আবার শুধুই শিশুদের শীতের কাপড় বিক্রি হচ্ছে।
নিউ মার্কেটের বাইতুন নূর মসজিদের সামনের এলাকায় ফুটপাতে শীতবস্ত্র বিক্রি করেন সৌরভ, প্রতিদিন সেবককে তিনি বলেন, ফুটপাতে কাপড় বিক্রি করেই সংসার চালাই। শীতের মৌসুমকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু শীতবস্ত্র এনেছি, এগুলো ধাপে ধাপে বিক্রি করবো। গতবছরের অনেক শীতের কাপড় রয়ে গেছে। এখন সেগুলো কম দামে বিক্রি করছি।
এই বিক্রেতা আরও বলেন, এ বছর নতুন করে যেসব কাপড় আসবে সেগুলোর দাম আগের তুলনায় একটু বেশি। এখন সব ১০০ টাকা করে বিক্রি করছি। নতুন কাপড়ের দাম আরেকটু বেশি হবে। পুরনো কাপড় বিক্রি শেষ হয়ে গেলে নতুন কাপড় বিক্রি করবো। গতবারের তুলনায় এবার এক লটে দু'আড়াই হাজার টাকা বেশি দিয়ে কাপড় কিনতে হয়েছে।

খুলনায় কমদামে সবচেয়ে বেশি শীতবস্ত্র মেলে ডাকবাংলোর ফুটপাতে ও নিক্সন মার্কেটে। দোকানগুলোতে দেখা গেছে ছেলেদের জ্যাকেট, ডেনিমের সোয়েটার, লম্বা হাতার মোটা গেঞ্জি ও ব্লেজারের চাহিদা বেশি। এসব পোশাক ২০০ থেকে শুরু করে দেড়-দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বেশি বিক্রি হচ্ছে নারীদের সোয়েটার, জ্যাকেট ও হুডি। সেসব পোশাকও ৫০০ থেকে দুই হাজারে পাওয়া যাচ্ছে।
ফুটপাত থেকে সন্তানের জন্য শীতবস্ত্র কিনতে এসেছেন একজন গৃহিণী। প্রতিদিন সেবককে তিনি বলেন, শীত য়ারো জেঁকে বসার আগেই বাচ্চাদের জন্য শীতের পোশাক নিয়ে নিচ্ছি। এ মাসে শীত বাড়লে আবার দাম বেড়ে যাবে। তাই আগেভাগেই কিনে ফেলছি। সাতশো টাকার মধ্যে তিন বাচ্চার শীতের পোশাক কিনে ফেলেছি।
ফুটপাতের অস্থায়ী ভ্যানগুলো ঘুরে দেখা যায় ৪ জোড়া মোজা বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। অনেকটা মাইকিং করেই ক্রেতা আকর্ষণ করছেন বিক্রেতারা।
এছাড়া মেয়েদের উলের সোয়েটার ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছেলেদের রঙবেরঙের জ্যাকেট ৩০০ থেকে শুরু করে হাজার পর্যন্ত দর উঠছে। এসব ভ্রাম্যমাণ দোকানে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে বাচ্চাদের শীতের পোষাক।
২০০ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৬০০ টাকয় মিলছে বাচ্চাদের বিভিন্ন শীতবস্ত্র।
বড় বিপণিবিতান বা শপিং মলে বেচাকেনা তেমন দেখা না গেলেও ইজি ফ্যাশনের দোকানে গিয়ে
নিক্সন মার্কেটের বিক্রেতা সুজন শেখ বলেন, ‘শীতের শুরু থেকেই ভালো বেচাকেনা হচ্ছে। বিকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ভিড় থাকে। আমরা কম লাভে কাপড় বিক্রি করি। এ জন্য বিক্রিও হয় বেশি। আমাদের দোকানে গরিব, নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত সবাই কেনাকাটা করতে আসেন।’

ডাকবাংলোর ফুটপাতে বসা কয়েকজন বিক্রেতা বলছেন, এই মৌসুমে শীতের পোশাক প্রথম দিকে তেমন বিক্রি হয়নি। ইদানিং শীত বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতা বাড়তে শুরু করেছে।
এদিকে দেশীয় নতুন পোশাকের পাশাপাশি বিদেশ থেকে আসা স্বল্পমূল্যের পুরোনো পোশাকের প্রতিও আগ্রহ দেখা গেছে ক্রেতাদের।
সাকিবুর/পিএস/এল
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত