
সারা দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ আবারও বাড়তে থাকায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (কেএমসিএইচ) পুনরায় চালু করেছে তাদের করোনা ইউনিট। বর্তমানে সেখানে ৪০টি আইসোলেশন বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং ১০টি আইসিইউ বেড প্রস্তুতের কাজ চলছে।তবে হাসপাতালটিতে মারাত্মক কিট সংকট এবং বিকল হয়ে থাকা পিসিআর মেশিনের কারণে পরীক্ষার ব্যবস্থা অপ্রতুল। বর্তমানে হাসপাতালের কাছে মাত্র ৭৫টি র্যাপিড অ্যান্টিজেন কিট রয়েছে, যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। এ অবস্থায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে ৫,০০০ কিট চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।পিসিআর মেশিনটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বর্তমানে অকার্যকর।হাসপাতালের করোনা ইউনিটের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. খান আহমেদ ইশতিয়াক বলেন, “নতুন করে সংক্রমণ বাড়ায় করোনা ইউনিট আবার চালু করেছি। একটি বিশেষ কমিটি ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্যানেল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ৪০টি আইসোলেশন বেড, ১০টি আইসিইউ বেড, ওষুধ ও অ্যানেসথেশিয়া বিশেষজ্ঞসহ আমরা রোগী দেখভালের জন্য প্রস্তুত আছি।”হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে খুলনায় কোনো করোনা পরীক্ষা হয়নি। ফলে পুরনো কিটের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত কোনো নতুন করোনা পজিটিভ রোগী শনাক্ত না হলেও উপসর্গযুক্ত রোগীদের আলাদাভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মিজানুর রহমান বলেন, “জ্বর, ঠান্ডা, কাশি বা শরীর ব্যথা নিয়ে আসা রোগীদের তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। যাদের শ্বাসকষ্ট রয়েছে তাদের লাল, হলুদ ও সবুজ এই তিনটি জোনে আলাদা চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ জন উপসর্গযুক্ত রোগী আসছেন। শুধুমাত্র শনিবার দিনেই দুটি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। অক্সিজেন সরবরাহে আপাতত কোনো সমস্যা নেই, মজুদে রয়েছে ৫০০টি সিলিন্ডার।উল্লেখ্য, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০২০ সালের ২৩ মার্চ থেকে করোনা পরীক্ষা শুরু হয় এবং এখন পর্যন্ত প্রায় ১৩,০০০ জন রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে এক হাজারের বেশি রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত