
খুলনা (১২ মার্চ)
মোংলা-খুলনা মহাসড়কে নৌ-বাহিনীর বাস ও যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক ও তার পরিবারের সাত সদস্যসহ ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। ছেলেকে বিয়ে দিয়ে নববধুকে সাথে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে এ মর্মান্তিক দূঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ছেলে ও নববধুরও মৃত্যু হয়েছে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেল ৪টায় মোংলা- খুলনা মহাসড়কের বেলাই ব্রীজ এলাকায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি বাস ও যাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় ৭ জনের মৃত্যু হয়। বাকীরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন।
নিহতরা হলেন আবাদুর রাজ্জাক, তার ছেলে (বর) সাব্বির, নববধু মারজিয়া আক্তার মিতু, মিতুর নানী আনোয়ারা বেগম, রাজ্জহাকের মেয়ে লামিয়া, রাজ্জাকের স্ত্রী আন্জুমারা বেগম, রাজ্জাকের আরেক ছেলের স্ত্রী পুতুল, পুতুলের ছেলে আলিফ, রাজ্জাকের আরেক মেয়ে ঐশি, ঐমির স্বামী সামিউল, ইরান, ইব্রাহিম সানি,মাইক্রো চালক নাঈম এবং অজ্ঞাত একজন।
বাগেরহাটের কাটাখালী হাইওয়ে থানার ওসি মো. জাফর আহমেদ দুর্ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, মোংলা থেকে ছেড়ে যাওয়া নৌবাহিবীর একটি বাসকে খুলনার কয়রা থেকে মোংলার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা একটি মাইক্রোবাস সরাসরি আঘাত করে। এসময় মাইক্রোবাসটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। মাইক্রোবাসে থাকা একই পরিবারের ২ শিশুসহ ৭ জনের মৃত্যু হয় ঘটনাস্থলে। পরে হাসপাতালে মৃত্যু হয় আরো ৭ জনের।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হসপিটালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মেহনাজ মোশাররফ জানান, প্রথমে আমরা একই পরিবারের ৭ জনের লাশ পেয়েছি। এর মধ্যে তিনজন নারী এক বছরের নীচে ২ জন শিশু, ১৩ বছরের একজন শিশু ও ২ জন পুরুষ রয়েছে। সর্বমোট ৯টি লাশ খুলনা মেডিকেলে আসে। এছাড়া গুরুতর আহন আরেককজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এদিকে রামপাল উপজেলা কম্পেক্সের চিকিৎসক ডা রাজেশ জানান, সেখানে ৪টি লাশ আছে।
নিহত রাজ্জাক মোংলা উপজেলার ৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন বলে জানাগেছে। তিনি তার ছোট ছেলে সাব্বিরকে খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশা গ্রামের মারজিয়া আক্তার মিতুর সাথে বিয়ে দিয়ে নববধুসহ পরিবার নিয়ে মোংলায় ফিরছিলেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত