
খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের ঠিকরাবন্দ এলাকায় সড়কের বেহাল দশা ও অবহেলার কারণে গত ৭ জুলাই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ‘খুলনা নাগরিক সমাজ’। আজ শুক্রবার সকালে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
পরিদর্শনকালে নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, মহাসড়কের দুই পাশ সংস্কার করা হলেও মাঝখানের একটি অংশ দীর্ঘ দিন ধরে সংস্কারহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। এই স্থানটি এখন সাধারণ মানুষের জন্য এক ‘মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন তেলবাহী একটি ড্রাম ট্রাক সড়কের উঁচু অংশ থেকে নিচু ও ভঙ্গুর অংশে নামার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশে থাকা একটি ইজিবাইকের ওপর পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন নিহত হন। এলাকাবাসী আরও অভিযোগ করেন, এই সড়কে নিয়মিত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে, বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও ইজিবাইক প্রায়ই উল্টে গিয়ে যাত্রীরা আহত হচ্ছেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. বাবুল হাওলাদার বলেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সংশ্লিষ্টদের অবহেলার কারণে আজ ঝরে গেল তিনটি তাজা প্রাণ, যা রীতিমতো একটি ফৌজদারী অপরাধ। তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ঝুঁকিপূর্ণ সড়কটি সংস্কারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সড়ক সংস্কারের কাজে কোনো ধরনের দুর্নীতি হয়ে থাকলে তা খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। দাবি আদায় না হলে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।
পরিদর্শনকালে খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য ও দৈনিক কালের কণ্ঠের খুলনা ব্যুরো প্রধান এইচ এম আলাউদ্দিন, কবি নাজমুল তারেক তুষার, দেশ আহমেদ রাজু এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে নেতৃবৃন্দ ও উপস্থিত এলাকাবাসী গত ৭ জুলাইয়ের দুর্ঘটনায় নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত