সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত ‘হাওয়া’ সিনেমার জয়যাত্রায় বাধা হয়ে দাড়িয়েছে ‘শালিক পাখি’ বিতর্ক। ছবিতে একটি শালিক পাখি খাঁচায় বন্দী দেখানোর জেরে সিনেমাটির প্রদর্শনী বন্ধের জন্য দেওয়া হয়েছে আইনি নোটিশ। এ ছাড়া সাড়ে তিন বছর ধরে সেন্সরের নিষেধাজ্ঞা মাথায় নিয়ে বন্দী আছে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী নির্মিত ‘শনিবার বিকেল’ সিনেমাটি।
মাঝে মাঝেই এমন আইনি বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে নাটক-সিনেমা নির্মাতাদের। এর প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার নির্মাতা, শিল্পী ও কলাকুশলীবৃন্দ ‘গল্প বলার স্বাধীনতা চাই’ শিরোনামে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সেখানে বক্তারা নাটক-সিনেমা নির্মাণের স্বাধীনতা চাওয়ার পাশাপাশি ‘হাওয়া’ সিনেমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহার ও ‘শনিবার বিকেল’ -এর মুক্তির দাবি জানান।
গুণী নির্মাতা ও সংস্কৃতি ব্যক্তিত্ব নাসিরুদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, “সম্প্রতি বাংলা চলচ্চিত্র তার হারানো চেহারা ফিরে পেয়েছে। দর্শকরা ফের হলমুখী হয়েছেন। ঠিক সেসময় চলচ্চিত্র ধ্বংসের ষড়যন্ত্র চলছে। ‘হাওয়া’ -এর প্রদর্শনী বন্ধে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ‘শনিবার বিকেল’ মুক্তির অনুমতি পাচ্ছে না। এছাড়া নির্মাতাদের বিরুদ্ধে দেওয়া হচ্ছে কোটি টাকার মামলা। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে শিল্পচর্চা ও নির্মাণের নিরঙ্কুশ স্বাধীনতা চাই। এরইমধ্যে জানা গেছে বর্তমান সেন্সরপ্রথা তুলে সিনেমার ছাড়পত্র প্রদানে নতুন সেন্সর প্রথা চালু হবে। সেই সেন্সরে চলচ্চিত্র মুক্তির ক্ষেত্রে কী কী নীতিমালা থাকবে– সেসবও জানতে চাচ্ছি।”
এ প্রসঙ্গে চলচ্চিত্র নির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরী বলেন, ‘আজকাল সিনেমা নির্মাণের কথা ভাবলেই মাথায় আসে– কী নিয়ে সিনেমা বানানো যাবে আর কী নিয়ে যাবে না। ডাক্তার নিয়ে বানালে ডাক্তাররা রিট করেন, উকিল নিয়ে বানালে উকিলরা রিট করেন। তাহলে আমরা সিনেমাটা বানাবো কাকে নিয়ে? এভাবে এত প্রতিবন্ধকতা মাথায় নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ সম্ভব না।’
অভিনেত্রী জয়া আহসান বলেন, “শিল্পের ওপর এমন আগ্রাসন কেন? ‘শনিবার বিকেল’ মুক্তির অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। হলি আরটিজানে হামলার ঘটনা কি ঘটেনি? এই ঘটনাকে কি মুছে ফেলা যাবে? তাহলে এমন আচরণের কারণ কী? আর প্রান-প্রকৃতি নিয়ে যাদের এত মায়া তারা কাটাবনের পাখি বিক্রির ক্ষেত্রে তো কিছু বলেন না।”
এরপর ‘হাওয়া’ সিনেমার নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন বলেন, ‘আমরা সিনেমা বিষয়ক আড্ডায় বলতাম, ফুল, পাখি, লতা-পাতা নিয়ে সিনেমা বানাতে হবে। এখন থেকে পাখি বাদ দিতে হবে। বলতে হবে ফুল, লতা-পাতা নিয়ে সিনেমা বানাতে হবে। বাস্তবজীবন থেকেই তো একজন নির্মাতা তার নির্মাণের উপকরণ খুঁজে পান। সেখানে নৃশংসতাও রয়েছে। সেগুলো তো তুলে ধরতে হবে। আমার সিনেমায় প্রকৃতির গল্প বলতে চাচ্ছিলাম। তার বিপরীতে একটি নৌকার সাত-আটজন মাঝি-মাল্লার মাঝে সহিংসতা হয়। প্রকৃতি তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়। এর মাঝে চান মাঝি যে তার পোষা পাখি চিবিয়ে খায়। সেটা না দেখালে তো আমি প্রতিকূল চিত্রটা তুলে ধরতে পারতাম না। এছাড়া ভাষার ব্যবহারেও অভিযোগ আনা হয়েছে। আমি দর্শকের সহজে বোঝানোর জন্য এই ভাষা অনেক মার্জিত করে ব্যবহার করেছি। কিন্তু সেখানেও সমস্যা হচ্ছে। এত অনুভূতির ভিতর দিয়ে আসলে গল্প বলা যায় না। এত কায়দা-কানুন মাথায় নিয়ে নির্মাণ সম্ভব না।’
সম্মেলনে অংশ নেওয়া নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীরা নির্মাণে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে এমন সকল বিধিনিষেধ প্রত্যাহার দাবি করেন। পাশাপাশি কায়দা-কানুনের পাহাড় সঙ্গে নিয়ে নাটক-সিনেমা নির্মাণ করা সম্ভব না বলে জানান তারা।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত