
ঐতিহাসিক চরমোনাই ৩ দিনব্যাপী বার্ষিক মাহফিল বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর তীরে চরমোনাই’র ময়দানে আজ বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে তাসাউফ ও সমাজ শুদ্ধির দেশব্যাপী বিস্তৃত সংগঠিত চিশতিয়া-সাবরিয়াতরিকার তিন দিনব্যাপী বার্ষিক মাহফিল। ঐতিহ্যবাহী মাহফিল প্রতি বছর অগ্রহায়ণ ও ফাল্গুন মাসে অনুষ্ঠিত হয়। তবে এই বছর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রমজানের কারণে চৈত্র মাসে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বুধবার জোহরের নামাজের পরে বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটির প্রধান আমীরুল মুজাহিদিন মুফতি ও চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম উদ্বোধনী বয়ানের মাধ্যমে মাহফিলের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে।
তিন দিনব্যাপী মাহফিলে প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় মোট সাতটি প্রধান বয়ান অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী ও সমাপনী বয়ানসহ মোট ৫টি বয়ান পেশ করেন পীর সাহেব চরমোনাই। ঝেরতিনটি বয়ান পেশ করেন বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটির নায়েবে আমীর মুফতি ও শায়েখে চরমোনাই সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম।
এছাড়াও দেশের শীর্ষস্থানীয় উলামায়ে কেরাম বিভিন্ন সময়ে বয়ান করেন। চরমোনাই জামেয়া রশিদিয়া আহসানাবাদ কর্তৃক আয়োজিত মাহফিলের ব্যবস্থাপনায় থাকে বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি।
গত শতাব্দির ৩০ এর দশকে মাহফিলের সূচনা হয়। কালক্রমে এই মাহফিল ও এই আধ্যাত্মিক ধারা দেশের প্রধানতম আধ্যাত্মিক ধারায় পরিনত হয়। এইধারারই প্রধান মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মাদ ফজলুল করীম রাহিমাহুল্লাহ ১৯৮৭ সালে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন নামে প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু করেন যা এখন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নামে পরিচিত। বাংলাদেশের আধ্যাত্মিকতা ও রাজনীতিতে এই মাহফিল ও ধারার শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে।
মাহফিলে আগত মুসল্লিদের থাকার জন্য চারটি সুবিশাল মাঠ প্রস্তুত রয়েছে। আলো ও শব্দযন্ত্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অজু, গোছল ও ইস্তেঞ্জার জন্য পর্যাপ্ত আয়োজন করা হয়েছে। সেবা ও শৃঙ্খলার জন্য সহস্রাধিক স্বেচ্ছাসেবক থাকবেন। চিকিৎসার জন্য একশ’ শয্যার হাসপাতাল রয়েছে যেখানে দেশের শীর্ষ চিকিৎসকগণ সার্বক্ষণিক জরুরি সেবাপ্রদান করবেন। দুইটি ওয়াটার এ্যাম্বুলেন্সসহ ৫টি এ্যাম্বুলেন্স থাকবে রোগীদের জরুরী স্থানান্তরের জন্য। নিরাপত্তার জন্য পুলিশ-আনসার বাহিনীর পাশাপাশি নিজ স্বনিরাপত্তা কর্মী নিয়োজিত থাকবে। ফায়ার সার্ভিসের একটি দল সদা প্রস্তুত থাকবে। আগামী ৪ এপ্রিল শনিবার সকালে আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে মাহফিলের কার্যক্রম শেষ হবে।
খুলনার ধর্মপ্রাণ মুসলিম ভাইদেরকে মাহফিলে অংশগ্রহণ করার আহবান জানিয়েন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আব্দুল্লাহ ইমরান, সহ-সভাপতি হাফেজ আসাদুল্লাহ গালিব, মাওলানা আবু সাঈদ, সেক্রেটারি এস এম রেজাউল করিম সরদার, জয়েন্ট সেক্রেটারি আলহাজ্ব মোঃ শফিকুল ইসলাম, মাওঃ হারুনুর রশিদ, মোঃ মুহিব্বুল্লাহ, হাফেজ মাওলানা মুফতি আশরাফুল ইসলাম, মুফতি এনামুল হাসান সাঈদ, মাস্টার জাফর সাদেক, মুফতি আজিজুর রহমান সোহেল, মাওঃ আসাদুল্লাহ হামিদী, মাওঃ মাহবুবুল আলম, মোঃ নুরুল হুদা সাজু, মোঃ লিয়াকত আলী, মোঃ ইউসুফ আলী আল, মোঃ আবু দউদ, মোঃ আবু রায়হান, মাওলানা মোঃ ওমর আলী, মাওঃ আব্দুল আলেক, মুফতি ফয়জুল্লাহ, মাওঃ আহমাদ আলী, হাফেজ মোহাঃ কারিমুল ইসলাম হাফেজ জাহিদুল ইসলাম, মোঃ ওলিয়ার রহমান আলী ও মোঃ ইসমাইল হোসেন প্রমুখ।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত