উত্তর কলকাতার নিষিদ্ধপল্লীর পরিবেশে ১৮৬২ সালে জন্ম নিয়েছিলেন নটী বিনোদিনী। সেখান থেকে ঊনবিংশ শতকের বাংলা রঙ্গমঞ্চের কিংবদন্তি অভিনেত্রী হয়ে ওঠেন তিনি। তখন বাল্যবিবাহের যুগ। শৈশবেই তার বিয়ে হয়েছিল এলাকার এক বালকের সঙ্গে।
কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে স্বামীর ঘর করার সৌভাগ্য নটী বিনোদিনীর। চরম দারিদ্রে কেটেছিল শৈশব। গঙ্গা বাঈজির হাত ধরে বারো বছরের বিনোদিনী যোগ দিয়েছিলেন ন্যাশনাল থিয়েটারে। মাসে দশ টাকা বেতন। মঞ্চে প্রথম অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছিলেন ১৮৭৪ সালে। ‘বেণীসংহার’ নাটকে দ্রৌপদীর সখীর ভূমিকায়। এরপর আর পিছনে তাকাতে হয়নি।
টলিউডে নটী বিনোদিনীর জীবনী নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন রামকমল মুখোপাধ্যায়। নাম-ভূমিকায় অভিনয় করবেন রুক্মিনী মৈত্র। এরইমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে প্রথম পোস্টার। এবার শুরু হলো শুটিং।
এমন একটি চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয় প্রসঙ্গে রুক্মিনী বলেন, ‘নিজের টিমের ওপর সম্পূর্ণ আস্থা ছিল। আর সত্যিই ওরা যেন জাদু করেছে। নটি বিনোদীনির লুকটা তৈরি করতে চার ঘণ্টা লেগেছে।’
পরে ফেসবুকে ছবিটি পোস্ট করে রুক্মিণী জানান, অভিনেত্রী হিসেবে এটিই তার সবচেয়ে কঠিন কাজ। রামকমল অ্যাকশন বলার সঙ্গে সঙ্গেই বিনোদিনীর সমস্ত সংগ্রাম যেন তার চোখের সামনে ভেসে উঠেছিল। এমনটাই জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
রুক্মিণীর বিনোদিনী হওয়ার যাত্রা সহজ ছিল না। বিনোদিনীর সাজ, তার শাড়ি-গয়না থেকে শুরু করে সমস্ত কিছু নিখুঁতভাবে পর্দায় তুলে ধরা প্রসঙ্গে রামকমল বলেন, ‘বিনোদিনীর যুগকে ফিরিয়ে আনা ভীষণ কঠিন কাজ ছিল। আমি শুচিস্মিতা দাশগুপ্ত, বীথিকা ও মৌসুমীর কাছে তাদের গবেষণার জন্য অনেক কৃতজ্ঞ। যেহেতু বিনোদিনীর আসল ছবি সংরক্ষিত করা নেই তাই তার শাড়ির উপাদান থেকে শুরু করে গয়নার নকশা ঠিক কেমন ছিল তা বোঝা বেশ কঠিন কাজ ছিল। প্রায় তিন সপ্তাহ লেগেছে আমার টিমের নকশা এবং ফেব্রিক বের করতে, আমি তাদের কাছেও অনেক কৃতজ্ঞ।’
ছবিতে রুক্মিণীর কস্টিউম ডিজাইন করেছেন প্রখ্যাত কস্টিউম ডিজাইনার শুচিস্মিতা দাশগুপ্ত। এর আগে অভিনেত্রীর ‘চৈতন্য’ লুক তিনিই বানিয়েছিলেন। ঐতিহ্যবাহী বাংলার মসলিন বেনারসি, রেড ওয়াইন ভেলভেট পাইপড ব্লাউজ, সোনার গয়নায় রুক্মিণীকে সাজানো হয়েছে। তিরুপতি মন্দির থেকে তার জন্য লম্বা চুল আনা হয়েছে। শুধু তাই নয় লন্ডন থেকে আনা বিশেষ ফেস টোনার দিয়ে রুক্মিণী’র বিনোদিনী লুক পারফেক্ট করা হয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত