
খুলনা(২৮ অক্টোবর)
খুলনায় চিকিৎসকের অবহেলার কারণে নবজাতক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আজ বুধবার সকালে নগরীর স্যার ইকবাল রোডের সরকারী ‘মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে’ এ ঘটনা ঘটে। শিশু মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা ওই কেন্দ্রের জানালার কয়েকটি গ্লাস ভাংচুর করে।
পরিবারের অভিযোগ, প্রসুতি ফারহানর প্রসব বেদনা উঠলে গতকাল মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে তাকে ‘মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে’ ভর্তি করা হয়। এসময়ে রোগিকে বলা হয় স্বাভাবিক নিয়মে মা বাচ্চা প্রসব করবে। কিন্তু রাত ১টার পর ওখানকার চিকিৎসক ঘুমিয়ে পড়েন। প্রসব বেদনা উঠলে কাউকে ডেকে পাওয়া যায়নি। রাত দেড়টার দিকে ওই নারীর অবস্থা আরও খারাপের দিকে যায়। কিন্তু কেউ তাদের ডাকে সাড়া দেয়নি।
পরবর্তীতে আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে একজন আয়া এসে বাচ্চা টেনে হেঁচড়ে বের করতে গেলে শিশুটি মারা যায়। শিশু মারা গেছে এমন সংবাদ পেয়ে আত্মীয় স্বজনরা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে হামলা চালায়। তারা ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে ওই কেন্দ্রের কয়েকটি জানালার গ্লাস ভেঙ্গে ফেলে। বিক্ষুদ্ধদের আচারণের কারণে ওই হাসপাতাল থেকে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরবর্তীতে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
মৃত নবজাতকের মামা সাইদুল ইসলাম বলেন, তারা ইচ্ছা করে আমার বোনের শিশুটিকে হত্যা করেছে। এমন ঘটনা এর আগেও একবার এখানে ঘটেছে। এমন সংবাদ পেয়ে আমাদের সাথে সাধারণ জনতারা এ কেন্দ্রে ভাংচুরে অংশ নেয়। এর সুষ্ঠু বিচার তিনি আশা করেন।
বেলা ১২টায় ঘটনাস্থলে গিয়ে সেখানকার কোনো চিকিৎসককে পাওয়া যায়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কেন্দ্রের একজন কর্মকর্তা বলেন, মঙ্গলবার সকালে প্রসুতি ফারহানা আক্তার স্যার ইকবাল রোডের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে আসেন। পরে তাকে আলট্রোসনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে আলট্রোসনা করেন। রিপোর্ট অনুযায়ি তার নির্ধরিত তারিখ আরও এক মাস পরে। কিন্তু মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ প্রসব বেদনা হলে তিনি এখানে ভর্তি হন। রাতে তাকে সার্বিক দেখাশুনা করা হয়। তবে কি কারণে শিশুটি মায়ের গর্ভে মারা গেল তার সঠিক উত্তর তিনি দিতে পারেননি। পরিস্থিতি খারাপ দেখে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। তারা বিষয়টি মিমাংশা করেন বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
জানতে চাইলে খুলনা থানার অফিসার ইনচার্জ মো: লোকমান হোসেন রিপন বলেন, ভাংচুরের অভিযোগ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। যদি কেউ কোনো অভিযোগ দেয় তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত