আফগানিস্তানের তালেবান-নেতৃত্বাধীন প্রশাসন আমু দরিয়া নদী অববাহিকা থেকে তেল উত্তোলনের বিষয়ে একটি চীনা কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এছাড়া দেশটির উত্তর সার-ই-পুল প্রদেশে তেলের মজুদের বিকাশের জন্য কাজ করবে এ চীনা কোম্পানিটি। বৃহস্পতিবার রাজধানী কাবুলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আফগানিস্তানের খনি ও পেট্রোলিয়াম বিভাগের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী শেখ শাহাবুদ্দিন দেলাওয়ার এবং জিনজিয়াং সেন্ট্রাল এশিয়া পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড গ্যাস কোং-এর (সিএপিইআইসি) একজন কর্মকর্তা ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
২০২১ সালে ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে তালেবান প্রশাসন এ প্রথম দেশের খনিজ সম্পদ উত্তোলনে একটি বিদেশী কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
আফগানিস্তানের ভারপ্রাপ্ত উপ-প্রধানমন্ত্রী মোল্লা আব্দুল গনি বারাদার এবং দেশটিতে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ওয়াং ইউও ওই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাখতার নিউজ এজেন্সি এমন তথ্য জানিয়েছে।
ওই আফগান বার্তা সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুসারে বারাদার বলেছেন, ‘সম্প্রতি বেশ কয়েকটি প্রকল্প অর্থনৈতিক কমিশন দ্বারা অনুমোদিত হয়েছে। এ কমিশনের তত্ত্বাবধানে দেশের সমৃদ্ধি এবং জনকল্যাণের জন্য মৌলিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
আফগানিস্তানের ভারপ্রাপ্ত উপ-প্রধানমন্ত্রী মোল্লা আব্দুল গনি বারাদার
আফগানিস্তানের ভারপ্রাপ্ত এ উপ-প্রধানমন্ত্রী বলেন, চীনা কোম্পানিটি যাতে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী তাদের কর্মকাণ্ড চালায় তার জন্য আমরা অনুরোধ করেছি। সার্-ই-পুলের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থে এ জ্বালানি তেল উত্তোলন প্রক্রিয়াটি চালিয়ে যাবে ওই কোম্পানিটি।
অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে শেখ শাহাবুদ্দিন দেলাওয়ার বলেন, ‘এই চুক্তির অধীনে চীনা কোম্পানিটি উত্তর সার-ই-পুল, জাওজান এবং ফারিয়াব প্রদেশে সর্বমোট ৪,৫০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে জ্বালানি তেল উত্তোলন করবে।’
তিনি বলেন, “এই প্রকল্পের অধীনে তিন হাজারের বেশি স্থানীয় লোক চাকরি পাবে।”
চীনা রাষ্ট্রদূত ওয়াং ইউ বলেন, এ চুক্তিটি যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটা কাবুল ও বেইজিংয়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। আমু দরিয়া তেল চুক্তি চীন ও আফগানিস্তানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প।
সূত্র : আল-জাজিরা
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত