চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কর্তৃত্ববাদী শাসন এবং কঠোর জিরো-কোভিড নীতির বিরুদ্ধে রাজধানী বেইজিংয়ে এক বিরল বিক্ষোভ হয়েছে। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ঐতিহাসিক কংগ্রেসের একদিন আগেই বৃহস্পতিবার (১৩ অক্টোবর) এই বিক্ষোভ হলো।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবিসি বলছে, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কংগ্রেসের আগেই বেইজিংয়ের জনগণের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। এই কংগ্রেসের মাধ্যমে আবারও চীনের প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন শি জিনপিং। দেশটিতে এমন বিক্ষোভের ঘটনা বিরল।
চীনের রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেছেন বিক্ষোভকারীরা। পাশাপাশি বেইজিংয়ের বিভিন্ন স্থানেও শি জিনপিংয়ের নিন্দা জানিয়ে টাঙানো হয়েছে ব্যানার।
চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বৃহস্পতিবার এসব ব্যানার ও বিক্ষুব্ধ জনতার অবস্থান নেওয়ার ছবি ভাইরাল হয়েছে। অবশ্য ইতোমধ্যেই সড়কে অবস্থান নেওয়া আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। অপসারণ করা হয়েছে বেশিরভাগ ব্যানারও।
টুইটারে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ছবিতে বেইজিংয়ের উত্তর-পশ্চিমের হাইদিয়ান এলাকার একটি সেতুতে আন্দোলনকারীদের দুটো ব্যানার ঝুলতে দেখা গেছে। এক ব্যানারে লেখা হয়েছে, ‘আমরা আর কোভিড টেস্ট চাই না, খেয়ে পরে বাঁচতে চাই। আর লকডাউন নয়, আমাদের মুক্তভাবে চলাচল করতে দাও।’
আরেকটি ব্যানারে লেখা ছিল, স্বৈরতান্ত্রিক বিশ্বাসঘাতক শি জিনপিংকে উৎখাত করতে করতে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলব আমরা।
সাধারণত কোনও গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের আগে বেইজিংয়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পার্টি কংগ্রেসকে সামনে রেখে এবারও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কিন্তু তার ওপর কোভিড সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য নগর কর্তৃপক্ষ আরো বাড়াবাড়ি রকমের কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।
লাখো অধিবাসীকে প্রতি তিনদিন পরপর কোভিড পরীক্ষা করানো হচ্ছে। সব ভবনেই মানুষের আসা-যাওয়াসহ অধিবাসীরা এমনকী মাস্ক পরছে কিনা তার ওপরও নজর রাখা হচ্ছে। বেইজিং থেকে কোনও মানুষকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না কিংবা ঢুকতেও দেওয়া হচ্ছে না।
এমন কড়াকড়িতে অনলাইনে হতাশ একজন লিখেছেন, ‘বেইজিং কেন এমন করছে আমি বুঝি না… আমি কাজে যেতে পারছি না। আমার চাকরি চলে যাওয়ার পথে। আমি খুবই হতাশ। এ অবস্থা কবে শেষ হবে?’
আরেকজন লিখেছেন, ‘একজন সভা করবে শুধুমাত্র এই কারণে আমরা এতসব ভোগান্তি পোহাচ্ছি।’
চীনা কম্যুনিস্ট পার্টির সপ্তাহব্যাপী ২০তম পার্টি কংগ্রেস রাজধানী বেইজিংয়ের গ্রেট হলে শুরু হতে চলেছে আগামী রোববার। কম্যুনিস্ট পার্টি এ সভায় কয়েক দশকের প্রথা ভেঙে শি জিনপিংয়ের তৃতীয় দফায় আরও পাঁচ বছর মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার প্রস্তাব অনুমোদন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চীনে মাও জে দংয়ের পর শি জিনপিংকেই সবচেয়ে ক্ষমতাধর নেতা হিসাবে দেখা হয়। তিনি তৃতীয়বারের মত প্রেসিডেন্ট হলে তার ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ আরও পাকাপোক্ত হবে। শি আজীবন ক্ষমতা ধরে রাখতে পারেন বলেও অনেকে মনে করেন।
সূত্র: বিবিসি
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত