
এআই প্রযুক্তি সুযোগ তৈরি করছে, ঝুঁকিও আনছে। ভুয়া ছবি-ভিডিও (ডিপফেক), স্বয়ংক্রিয় ভুল তথ্য তৈরি, অনলাইন প্রতারণা এবং ব্যক্তিগত তথ্য অপব্যবহারের মতো ঝুঁকির মধ্যেও খুলছে সম্ভাবনার দুয়ার। তাই তথ্য যাচাই না করে বা ফেক নিউজ (ভুয়া খবর) চেক না করে যেকোনো নির্দেশ বা কমান্ড দেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এটি বড় ধরনের ভুল সিদ্ধান্ত। যা বিভ্রান্তি তৈরি করে সমাজের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। এজন্য কোন নিউজ পেলে তার তথ্যের উৎস যাচাই করতে হবে। এটি কোনো নির্ভরযোগ্য মূলধারার গণমাধ্যমের কিনা তা নিশ্চিত হতে হবে। অচেনা বা সন্দেহজনক ওয়েবসাইটের তথ্য এড়িয়ে চলতে হবে। একাধিক মাধ্যমে ক্রস-চেক করে নিশ্চিত হতে হবে। গুগল বা অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিনে খবরটি লিখে সার্চ করে দেখতে হবে। ফ্যাক্ট-চেক ওয়েবসাইটের সাহায্য নিলে আরো নিশ্চিত হওয়া যাবে। ভাইরাল কোনো ছবি বা ভিডিওর ক্ষেত্রে রিভার্স ইমেজ সার্চ ব্যবহার করলে ভালো হবে। সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখুন সত্যতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো কমান্ড বা নির্দেশ দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। হুট করে কোনো তথ্য শেয়ার বা ফরওয়ার্ড করবেন না। এভাবে বললেন জনউদ্যোগ,খুলনার কর্মশলায় বক্তারা।
আজ শুক্রবার ঢাকাইয়া বিয়েবাড়ির সেমিনার কক্ষে দিনব্যাপী জনউদ্যোগ,খুলনার আহবানে প্রজম্মের মেলবন্ধনে সুরক্ষিত বাংলাদেশ বিনির্মাণে শ্লোগানকে সামনে রেখে এআই এবং তথ্যপ্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা ও সঠিক ব্যবহার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন খুলনা বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক ট্রেজারার অধ্যক্ষ মাজাহারুল হান্নান ও পুলিশের সাবেক কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন জনউদ্যোগ,খুলনার আহবায়ক শিক্ষক নেতা মানস রায়। সভা পরিচালনা করেন সংগঠনের সদস্য সচিব সাংবাদিক মহেন্দ্রনাথ সেন। এআই ও তথ্যপ্রযুক্তির উপর প্রশিক্ষণ দেন আইসিটি শিক্ষক জয় বৈদ্য। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শিক্ষক দেবদাস মন্ডল,নারীনত্রী নূরুন নাহার হিরা, কৃষ্ণা দাস, দীপ বৈদ্য প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা যে কাজ করে, এআই সেকেন্ডের মধ্যে করে দিতে পারে। হিসাব-নিকাশ বা ডেটা বিশ্লেষণে এআই মানুষের চেয়ে অনেক কম ভুল করে। এআই ক্লান্ত হয় না, বিশ্রাম লাগে না। রোগ শনাক্তকরণ, সার্জারি ও ওষুধ তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখছে। তথ্য খোঁজা, বিশ্লেষণ ও ব্যক্তিগত শিক্ষায় সহায়তা করে। মহাকাশ গবেষণা, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ, খনি অনুসন্ধান ইত্যাদি বিপজ্জনক কাজ এআই দিয়ে করা যায়।
বক্তারা আরো বলে,অসুবিধাও অনেক। অনেক কাজ এআই ও রোবট করে ফেলে, ফলে মানুষের কাজের সুযোগ কিছু ক্ষেত্রে কমে। ব্যক্তিগত তথ্য অপব্যবহারের সম্ভাবনা থাকে। এআই মানুষের মতো অনুভূতি বুঝতে পারে না সম্পূর্ণভাবে। ডেটা ভুল হলে সিদ্ধান্তও ভুল হতে পারে। মানুষ এআই এর ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়লে নিজের চিন্তাশক্তি কমে যেতে পারে। সাইবার আক্রমণ, প্রতারণা, ভুয়া তথ্য ছড়ানো ইত্যাদিতে ব্যবহার হতে পারে।
অতিথিরা শিক্ষার্থীদের উদ্যোশে বলেন, এআই এবং তথ্যপ্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা ও সঠিক ব্যবহার করতে হবে। এরজন্য তথ্যপ্রযুক্তি আইন জানতে হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত