
খুলনার এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর সৎ বোন দুর্বৃত্তের গুলিতে আহত ইতি লাপাত্তা হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার গভীর রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে লাপাত্তা হন তিনি। বাড়ির মূল গেটে তালা দেওয়া। শনিবার দুপুরে বাড়িতে গেলেও ওই পরিবারের কোনো সাড়াশব্দ পায়নি খুলনা থানার পুলিশ। শনিবার রাতে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের কথা ছিল। কেউ না আসলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করবেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এদিকে রূপসায় যে বাড়ির সামনে ইতিকে গুলি করা হয়েছে বলে পুলিশকে বলা হয়েছে- সেখানে কোন গুলির খোসা বা কোন আলামত পাওয়া যায়নি। ঘটনা খুবই রহস্যজনক হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন খুলনা সদর থানা পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয়রা বলেন, জুলফিকার আলীর মেয়ে ইতি। রূপসা বহুমুখী বিদ্যালয়ের দশম শেণির শিক্ষার্থী। শুক্রবার রাত পৌনে ৮টার দিকে নগরের রূপসা বেড়িবাঁদ এলাকায় তাদের বাড়িতে তিনজন ছেলে বন্ধু ও তার একজন ভাবী বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।
এ সময় দু’টি মোটরসাইকেল যোগে ছয়জন যুবক এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুলিটি তার বাম পায়ের হাটুর চামড়া ভেদ করে বাইরে বের হয়ে যায়। ঘটনার সাথে সাথে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু রাতে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ শেষে সেখান থেকে বের হয়ে যায়। একটি বেসরকারী হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার কথা বলে খুমেক থেকে রিলিজ নিয়ে চলেযায় ইতি। এরপর সে কোন হাসপাতালে ভর্তি হয়নি। এমনকি বাড়িও ফিরে আসেনি।
আজ শনিবার সকালে এবং দুপুরে দুই দফায় পুলিশ তাদের বাড়ি গিয়ে ফিরে আসে। বাড়ির মূল ফটকে তালা দেওয়া। বাড়ির ভেতর থেকে কোনো সাড়া শব্দও পাওয়া যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সূত্র আরো জানায়, গত জুন মাসের শেষের দিকে সোহেল নামের একটি ছেলের সাথে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় ইতি। গত ২৮ জুন বৃষ্টি আক্তার নামে তার এক ভাবি খুলনা সদর থানায় জিডি করেন। পরবর্তীতে তাকে চট্রগ্রাম মেট্রোপলিটন কর্ণফুলী থানা পুলিশ উদ্ধার করে খুলনা থানায় হস্তান্তর করে। ২ জুলাই খুলনা সদর থানা পুলিশ তাকে পরিবারের কাছে দেয়।
স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, খুলনার পুরস্কার ঘোষিত এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর সৎ বোন ইতি। মূলত সোহেলকে ভয় দেখানোর জন্য এ কাজটি করেছে বলে ওই সূত্রটির দাবি।
জানতে চাইলে খুলনা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো: শফিকুল ইসলাম বলেন, রাতে ঘটনার পরপর ইতির ভাবি ও ইতির তিন বন্ধুদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ঘরে তারা পাঁচজন অবস্থান করছিল। দু’টি মোটরসাইকেলে ৬জন এসে ইতিকে লক্ষ্য করে গুলি করে চলে যায়। কিন্তু ঘটনাস্থল থেকে কোনো আলামত সংগ্রহ করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনাটি রহস্যজনক। কারা ঘটনাটি ঘটিয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে গতকাল শনিবার রাতে মামলা করার কথা ছিল। যদি কেউ না করে তাহলে পুলিশ বাদী হয়ে থানায় মামলা করবে। আপাতত ঘটনাটি রহস্যজনক হিসেবেই দেখা হচ্ছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত