২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় অলস সময় কেটেছে জেলেদের। তিন সপ্তাহের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় স্বস্তি ফিরে পাওয়া উপকূলীয় জেলাগুলোর জেলেরা গতরাতে পুরোদমে ইলিশ আহরণে ছুটে গেছেন সাগরপানে।
নৌকা ও ট্রলারে চেপে হাজার হাজার জেলে ছুটছেন নদী-সাগরে। এর ফলে কয়েকদিন ধরে প্রাণহীন থাকা জেলে পল্লীগুলোতে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য। জেলে পল্লীগুলোতে বইছে আনন্দের জোয়ার, জেলেদের মুখে ফুটছে হাসির ঝিলিক।
ইলিশের নিরাপদ প্রজননের লক্ষ্যে ৭ থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। ওই ২২ দিন দেশব্যাপী ইলিশ আহরণ, বিপণন, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন, মজুত ও বিনিময় নিষিদ্ধ থাকে।
ইলিশের প্রজনন ক্ষেত্রে সব ধরনের মৎস্য আহরণও এ সময় নিষিদ্ধ। ইলিশের নিরাপদ প্রজননের স্বার্থে এ সময় মা ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয় বলে জানায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এই ইলিশ আহরণে বিরত থাকা জেলেদের সরকার ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা দেয়।
২০০৩-০৪ সাল থেকে বাংলাদেশে জাটকা রক্ষা কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর থেকেই ধীরে ধীরে ইলিশের উৎপাদন বাড়ছে।
অবরোধের বিষয়ে ইলিশ গবেষকরা বলছেন, ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞার প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে, মা ইলিশ রক্ষা করা। যাতে তারা নিরাপদে নদীতে ডিম ছাড়তে পারে। এই ডিম রক্ষা করতে পারলে তা নিষিক্ত হয়ে জাটকার জন্ম হবে। সেই জাটকা রক্ষা করা গেলে দেশে ইলিশের উৎপাদন অনেক বাড়বে।
গতরাতে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পরপরই শত শত জেলে ট্রলার ও জাল নিয়ে সাগরপানে ছুটে যান। গভীর সাগরে ইলিশ ধরতে যাওয়ার আগে উপকূলীয় জেলা বরগুনার হাজার হাজার জেলের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা যায়।
২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় বিপুল মাছ ধরা পড়ার আশা করছে তারা। জেলেরা বলছেন, ২২ দিন ধরে সাগরে নামায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। এ সময়ে ইলিশসহ অন্যান্য মাছ অবাধে বিচরণ ও বংশবিস্তার করেছে। ফলে এবার বড় আকারের প্রচুর ইলিশ পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।
পাথরঘাটা উপজেলার জেলে রাজু বলেন, শুধু মাছ ধরাই একমাত্র পেশা হওয়ায় নিষেধাজ্ঞার দিনগুলোতে তাদের অলস সময় কেটেছে। ধার-দেনা করে সংসার চালাতে হয়েছে। ফের মাছ ধরা শুরু হয়েছে; আশা করি প্রচুর ইলিশ ধরা পড়বে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত