বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের টুইটার ক্রয়ের বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকেই এর ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
সেই সঙ্গে, রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও। মাস্কের টুইটার ক্রয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থি রাজনীতিবিদরা খুশি হলেও একে বর্তমান পুঁজিবাদী সমাজের প্রতিচ্ছবি বলে মনে করছেন অনেকে। তবে, সমালোচনা থাকলেও টুইটারে বাকস্বাধীনতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ইলন মাস্ক।
রোববার, বিশ্বের শীর্ষ ধনী ও টেসলার কর্ণধার ইলন মাস্কের কাছে ৪ হাজার ৪০০ কোটি মার্কিন ডলারের বিনিময়ে টুইটার বিক্রির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। গণমাধ্যমে এমন খবর আসার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে নানা মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। এমনকি এর ভবিষ্যৎ নিয়েও রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
টুইটারে ৮ কোটি ৪২ লাখের বেশি অনুসারী থাকলেও আরেক জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কোনো অ্যাকাউন্ট নেই ইলন মাস্কের। ফেসবুকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয়গুলো নিয়েও বরাবরই নেতিবাচক মোনোভাব দেখিয়ে এসেছেন তিনি।
তবে, এবার সেই ব্যাক্তিগত গোপনীয়তার বিষয়গুলোকেই আরও শক্তিশালী করা, টুইটারকে আরও স্বচ্ছ করার পাশাপাশি বাকস্বাধীনতার বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটির নতুন মালিক হতে যাওয়া ইলন মাস্ক।
টুইটারের মূল আয় বিজ্ঞাপন। তবে, মাস্ক একে বদলে ফেলতে চান। বিজ্ঞাপনে নয়, তার আগ্রহ সাবস্ক্রিপশন–ভিত্তিক ব্যবসায়। তার দাবি, অধিকাংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিনামূল্যে ব্যবহার গেলেও তিনি অর্থের বিনিময়ে টুইটার এ সেবা দেবেন। টুইটার ব্যবহারকারীরা তাদের তথ্য বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে দিতে না চাইলে অর্থ খরচ করতে হবে। তবে, ক্রিপটোকারেন্সিতে মাস্কের ব্যাপক আগ্রহ থাকায় বিটকয়েনের মাধ্যমে লেনদেনকে তিনি সামনে আনতে পারেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
তবে, মাস্ক টুইটারের নতুন মালিক হতে চললেও, এর প্রধান নির্বাহী কে হবেন সে বিষয়ে এখনও কিছু জানা যায়নি। তবে, এর বর্তমান ব্যবস্থাপনার ওপর নিজের আস্থা নেই বলে আগেই জানিয়েছেন এই ধনকুবের। বর্তমানে টুইটারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ভারতীয় প্রযুক্তিবিদ পরাগ আগরওয়াল। টুইটারের সহপ্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ডরসির সমর্থনে গেল নভেম্বরে এ দায়িত্ব পান তিনি।
এদিকে মাস্কের টুইটার কেনা ও এর ভবিষ্যৎ নিয়ে এরই মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেছেন বিশিষ্টজনরা। একধরনের নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী ও আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস। চীন সরকারকে টুইটারে বাড়তি সুবিধা দিতেই মাস্ক এটি ক্রয় করতে যাচ্ছেন বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।
অন্যদিকে বিবিসি বলছে, এরই মধ্যে টুইটার ছাড়ার হুমকি দিয়েছেন বহু ব্যবহারকারী। মাস্কের টুইটার ক্রয়ের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থিরা। এতে মাস্কের মালিকানায় টুইটারে বিদ্বেষ আরও বাড়বে বলেও আশঙ্কা করছেন অনেকে। যদিও মালিকানা পরিবর্তন হলেও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগের এই মাধ্যমটিতে আর ফিরবেন না বলে এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন।
পিএসএন/এমঅাই
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত