তেতুলিয়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন ১০/১২ জন। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় তিরনইহাট ইউনিয়নের দগরবাড়ি এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। এক পক্ষের আহত ব্যক্তিরা হলেন- আইয়ুব আলী (৬০), জসিম (৩০), সুমন খান (৩৫) ও ইব্রাহিমসহ (৩৫) আরও কয়েকজন।
এদের মধ্যে আইয়ুব আলী ও জসিমের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল এবং তেতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের সকলের বাড়ি দগরবাড়ি গ্রামে।
এ ঘটনায় মাসুদ রানা ফরহাদ বাদী হয়ে ২৮ জনকে আসামি করে তেতুলিয়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
অভিযোগে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই আইয়ুব আলী ও সুমন খানদের সাথে প্রতিপক্ষ হালিম গংদের সাথে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। উভয় পক্ষই জমির মালিকানা দাবি করে চলমান রয়েছে মামলা-মোকদ্দমা। বিষয়টি মীমাংসার লক্ষ্যে থানা এবং সামাজিকভাবে একাধিক বৈঠক হয়েছে। আগামী শনিবার মীমাংসার উদ্দেশ্যে তেতুলিয়া মডেল থানায় বৈঠকে বসার কথা আছে। কিন্তু এরই মধ্যে বুধবার সন্ধ্যায় তিরনইহাট ইউনিয়নের দগরবাড়ি এলাকায় সুমন খান পান খেতে দোকানে যাবার সময় পরিকল্পিত ভাবে হামলা করে প্রতিপক্ষ আব্দুল হালিম ও তার সহযোগীরা।
একপর্যায়ে মারধর করে তাকে রাস্তায় ফেলে রাখে। পরে তাকে বাঁচানোর জন্য পরিবারের লোকজন ছুটে আসলে তাদেরও মারধর করা হয়। এ সময় কারও মাথায়, কারও পা ও কারও হাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। তারা আহত হয়ে রাস্তায় পরে থাকে। পরে তাদের স্থানীয় অধিবাসী ও পরিবারের লোকজন দ্রুত উদ্ধার করে তেতুলিয়া হাসপাতালে নিয়ে আসে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করেন জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা।
অবশ্য একই অভিযোগ প্রতিপক্ষ হালিম গংদের। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে মুঠোফোনে আব্দুল হালিমের সাথে কথা হলে তিনি হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন তারাই তো আমাদের উপর হামলা চালায়। তারা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওঁত পেতে ছিল। আমরা ওই সময় ছিলাম ৪ জন। সবাই গুরুতর আহত হয়েছি। এখন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি। বিশেষ করে আমরা ২৯ একর জমির মালিক। তার মধ্যে ১৫ একর দখলে রয়েছে, বাকি তাদের দখলে। এটা নিয়েই ২০১৭ সাল থেকে জমাজমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে।
মডেল থানার ওসি আবু ছায়েম মিয়া জানান, আমরা এক পক্ষের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। মামলা প্রক্রিয়াধীন। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পি এস/এন আই
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত