মাস্টার্সের থিসিস শেষ হওয়ার আগেই আবাসিক হলের সিট বাতিলের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) বেগম রোকেয়া হলের ছাত্রীরা।
শনিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হলের সামনের সড়কে অবস্থান নেন অর্ধশতাধিক ছাত্রী। এসময় তারা হলের প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ ও অফিস সহকারীকে অপসারণ করার দাবি জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ছাত্রীরা হলে ফিরে যান।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ছাত্রীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী মাস্টার্স থিসিসের হার্ড বাইন্ডিংস জমা না দেওয়া পর্যন্ত আবাসিক হলে থাকতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। তবে থিসিস জমা দেওয়ার আগেই বেগম রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ মাস্টার্সের ছাত্রীদের কক্ষ ছেড়ে দেওয়ার জন্য নোটিশ দিয়েছেন। তাদের কক্ষে নতুনদের বরাদ্দ দিয়ে ওঠানোর নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। ছাত্রীরা প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
হলের অফিস সহকারী খুকিও ছাত্রীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন বলে অভিযোগ তাদের। এ প্রসঙ্গে আন্দোলনরত ছাত্রীরা বলেন, অফিস সহকারী খুকি হলের সিট বরাদ্দ নিয়ে ঝামেলা করেন। প্রায়ই তিনি ছাত্রীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। এজন্য তারা অফিস সহকারী খুকির অপসারণ দাবি করেছেন।
জানতে চাইলে বেগম রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যেসব ছাত্রী ডিফেন্স (মাস্টার্সের থিসিস গ্রুপের মৌখিক পরীক্ষা) দিয়েছে, তাদের আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। যারা এখনো ডিফেন্স দেয়নি, তাদের ক্ষেত্রে ডিফেন্স দেওয়ার পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
ছাত্রীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহারের অভিযোগ বিষয়ে জানতে অফিস সহকারী খুকির সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমার দাঁতে ভীষণ ব্যথা। এখন কোনো কথা বলতে পারবো না।’
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বেগম রোকেয়া হলে তীব্র আবাসন সংকট রয়েছে। আগের বর্ষের অনেক ছাত্রী এখনো হলে কক্ষ পাননি। তার ওপর নতুন করে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ১০২ জনকে হলে সংযুক্তি (অ্যাটাচমেন্ট) দেওয়া হয়েছে। নবীনদের জন্য কক্ষ বরাদ্দ দিতে আগের গণরুমগুলো ফাঁকা করা হচ্ছে। এজন্য থিসিস শেষ হওয়ার আগেই মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের সিট বাতিলের পথে হাঁটছে হল প্রশাসন। ওই কক্ষগুলোতে গণরুমে থাকা আগের বিভিন্ন বর্ষের ছাত্রীদের বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত