পুষ্টিগুণে ভরা ও পশুখাদ্যের অন্যতম উপাদান হওয়ায় দিন দিন পার্বত্যজেলা খাগড়াছড়িতে ভুট্টার চাষ বাড়ছে। ভালো বাজারমূল্য পাওয়ায় খাগড়াছড়ি সদর ছাড়াও দীঘিনালা, পানছড়ি, মাটিরাঙ্গা, রামগড়, মানিকছড়ি উপজেলায় ভুট্টা চাষ হচ্ছে।
খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলায় চলতি মৌসুমে ৫০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তিন হাজার ৯০০ মেট্রিক টন।
সদরের কমলছড়ি এলাকার ভুট্টা খেতে গিয়ে দেখা যায়, চেঙ্গী নদীর পারে ভুট্টা খেতে পাহাড়ি চাকমা নারীরা গাছ থেকে পরিপক্ক ভুট্টা সংগ্রহ করছে। তার কিছু দূর গেলে এক দল নারীরা মাটিতে বসে কোসা ছাড়ানো কাজে ব্যস্ত। তার পাশাপাশি পুরুষ শ্রমিকরা ভুট্টা বস্তা ভর্তি করে সড়কের পাশে রাখছেন।
খাগড়াছড়ি সদরের কমলছড়ি ভুট্টা চাষি জীবন চাকমা বলেন, এ ফলন ভালো হয়েছে। পরিচর্যা যত ভালো করা হয় ফলন তত ভালো হয়। এ বছর ছয় একক জমিতে ভুট্টা চাষ করেছি। এক একরে চার টন ফলন পাওয়া যায়। এক এককে খরচ হয় ৩৮ হাজার টাকা। ভুট্টা চট্টগ্রামে বিক্রি করা হয়। এখন দৈনিক ১০ জন শ্রমিক ভুট্টা খেতে কাজ করছে ভুট্টা সংগ্রহসহ নানান কাজে। দৈনিক এক জন শ্রমিককে ৫০০ টাকা করে দিতে হয়।
খাগড়াছড়ি সদরের কমলছড়ি এলাকার আর এক ভুট্টা চাষি প্রদীপ চাকমা বলেন, দুর্জয় ৫০২২ ও ডিকাল্ব ৯৫৮১ জাতের ভুট্টা চাষ করা হয়। পাহাড়ে দুর্জয় ৫০২২ সবচেয়ে ভালো ফলন দেয়। আড়াই একর চাষি করেছি। একটি কাঁচা ভুট্টা ৪০০ গ্রাম ওজন হয়। কাঁচা ও পাকা অবস্থায় ভুট্টা বিক্রি করি। এক একরে কাঁচা ফলন পাঁচ হাজার কেজি হয়, এক লাখ ৩০ হাজার টাকা পাওয়া যাবে।এই চাষি বলেন, শীত মৌসুমে বিক্রি করলে ভালো দাম পাওয়া যায়। গত বছর আবহাওয়া ভালো ছিল, তাই দাম ভালো পেয়েছে। এ বছর আরও বেশি দাম পাবো বলে চাষ করেছি। অন্যান্য ফসলের তুলনায় ভুট্টায় বেশি লাভ ও পরিশ্রম কম। আমাদের কমলছড়িতে বড় আকারে আট জন ভুট্টা চাষ করে সবাই সফল হয়েছে।পানছড়ি উপজেলার ভুট্টা চাষি জগদিশ চাকমা বলেন, ভুট্টা চাষে খরচের চেয়ে দশ গুণের বেশি লাভ হয়। সমতল ভুমিতে ভুট্টা চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছি।
এন আই
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত