
শেখ মোহাম্মদ আলী :
প্রায় দুই যুগ পর জোয়ার-ভাটার স্রোত বইতে শুরু করেছে ভরাট হয়ে যাওয়া পূর্ব সুন্দরবনের আড়ুয়ারবেড় ও লোগা খালে। খালে পানি দেখে জেলে ও মৎস্যজীবীদের মাঝে ফিরে এসেছে আনন্দ। সুন্দরবন সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এক বছর মেয়াদে খাল দুটি পুনঃখনন করেছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই যুগ আগে পলি জমে ভরাট হয়ে সরু খালে পরিণত হয় সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর ফরেস্ট স্টেশন অফিস সংলগ্ন আড়ুয়ারবেড় খাল এবং চাঁদপাই স্টেশনের লোগা খাল। খাল দুটিতে দীর্ঘদিন জোয়ার-ভাটার স্রোত ছিল না। নৌযান চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।
এ কারণে জেলে ও মৎস্যজীবীদের সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে কষ্ট করে ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার হেঁটে শ্যালা নদীতে মাছ ধরতে যেতে হতো। খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় যাতায়াতের সুবিধা না থাকায় জেলেরা ধানসাগর স্টেশনে সহজে পাশ পারমিট নিতেও যেতে পারতেন না।
দুই যুগ পর খাল দুটিতে আবারও জোয়ার-ভাটার পানি প্রবাহিত হওয়ায় জেলে ও মৎস্যজীবীদের মাঝে খুশির আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে।
সুন্দরবন সংলগ্ন শরণখোলার উত্তর রাজাপুর গ্রামের জেলে রুবেল হাওলাদার, মালেক বেপারী, পশ্চিম রাজাপুর গ্রামের জেলে আব্দুস সোহবান ও মৌয়ালী খলিল হাওলাদারসহ অনেকে জানান, এক সময়ের খরস্রোতা আড়ুয়ারবেড় ও লোগা খাল দুই যুগ আগে ভরাট হয়ে যায়। তখন নৌকা ও ট্রলার নিয়ে মাছ ধরতে যাওয়া সম্ভব হতো না। বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার পথ হেঁটে শ্যালা নদীতে মাছ ধরতে যেতে হতো।
তারা বলেন, এখন খাল দুটি পুনঃখননের ফলে আবারও জোয়ার-ভাটার প্রবাহ শুরু হয়েছে। এতে আগের মতো সহজেই সুন্দরবনের নদী ও খালে মাছ ধরতে যেতে পারবেন তারা।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বাগেরহাটের নবাগত নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত পাল বলেন, সুন্দরবন সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় পূর্ব সুন্দরবনের ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের আড়ুয়ারবেড় খাল এবং ১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের লোগা খাল পুনঃখনন করা হয়েছে।
তিনি জানান, আড়ুয়ারবেড় খাল সুন্দরবনের ধানসাগর স্টেশন থেকে শুরু হয়ে শ্যালা নদীতে মিলেছে এবং লোগা খাল জিউধারা বড়ইতলা এলাকা থেকে শুরু হয়ে একইভাবে শ্যালা নদীতে গিয়ে মিশেছে। খাল দুটি খননে সময় লেগেছে এক বছর এবং এতে ব্যয় হয়েছে ১২ কোটি ৭৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, দুই যুগ ধরে ভরাট থাকা আড়ুয়ারবেড় ও লোগা খাল পুনঃখনন শেষে গত ৯ মে খাল দুটি খুলে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে খালে প্রবল বেগে জোয়ার-ভাটার স্রোত প্রবাহিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, খাল দুটি পুনঃখননের ফলে একদিকে জেলে ও মৎস্যজীবীদের দুর্ভোগ কমেছে, অন্যদিকে সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী লোকালয়ে চলে আসার আশঙ্কাও কমবে। এছাড়া নদীতে সার্বক্ষণিক পানি প্রবাহ থাকায় সুন্দরবনে অগ্নিকাণ্ডের প্রবণতাও অনেকাংশে কমে যাবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত