দেশের বহরে যুক্ত হয়েছে শততম জাহাজ। এই জাহাজটির মালিক দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প গ্রুপ কবির স্টিল রি-রোলিং মিলস (কেএসআরএম) লিমিটেডের প্রতিষ্ঠান এসআর শিপিং লিমিটেড। এমভি জাহান-১ নামের এ জাহাজটি কেনার মধ্য দিয়ে দেশের শততম জাহাজের মালিকানা পাওয়ার দৌড়ে কেএসআরএম গ্রুপ এগিয়ে গেল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নতুন জাহাজটির রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চলছে। এটি এখন বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।
জানা গেছে, বাংলাদেশের মালিকানাধীন শততম জাহাজের নিবন্ধন পেতে বেশ কিছুদিন ধরে শিল্প গ্রুপগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছিল। মেঘনা গ্রুপ ‘মেঘনা সেঞ্চুরি’ নামে, এসআর শিপিং ‘জাহান- ১’ নামে ও ভ্যানগার্ড গ্রুপ ‘রয়েল আরাকান’ জাহাজ নামে আলাদাভাবে নিবন্ধনের আবেদন করে। তবে সবার আগে এমভি জাহান-১ বন্দর সীমানায় চলে আসায় এ প্রতিযোগিতায় এগিয়ে গেল কেএসআরএম গ্রুপ।
কেএসআরএম গ্রুপের মিডিয়া উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম জানান, এমভি জাহান-১ নামকরণের আগে এই জাহাজটি এমভি নর্ড প্যাসিফিক নামে পাঁচ বছর আগে পানামায় নিবন্ধন পেয়েছিল। কেএসআরএম গ্রুপ কিনে নেওয়ার পর এটির নামকরণ করা হয় জাহান-১। ৬১ হাজার ২২১ মেট্রিক টন পণ্য পরিবহনে সক্ষম জাহাজটি। বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র এসএস পাওয়ার লিমিটেডের ৫৯ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন
কয়লা নিয়ে জাহাজটি গত ২৬ মে ইন্দোনেশিয়ার মুয়ারা পান্তাই বন্দর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে রওনা দেয়। গত ৭ জুন জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছে। কেএসআরএম গ্রুপের কাছে মালিকানা হস্তান্তরের পর এখন এমভি জাহান-১ নামে জাহাজটির নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
নৌ-বাণিজ্য অধিদপ্তরের প্রিন্সিপ্যাল অফিসার ক্যাপ্টেন সাব্বির মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের আরেকটি স্থায়ী জাহাজ হিসেবে রেজিস্ট্রেশনের জন্য এমভি জাহান-১ আবেদন করেছে। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর জাহাজটি স্থায়ী রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট পাবে এবং বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে সারাবিশ্বে চলতে পারবে।
প্রসঙ্গত, নতুন এই জাহাজটিসহ কেএসআরএম গ্রুপের মালিকানায় এখন জাহাজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫। জাহাজ ব্যবসায় কেএসআরএম’র গাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে মেঘনা গ্রুপ। তাদের মালিকানায় আছে ২৪টি জাহাজ। এছাড়া আকিজ গ্রুপের ১০টি, এইচআর শিপিংয়ের ৮টি, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ৭টি, ভ্যানগার্ডের ৬টি, বসুন্ধরা গ্রুপের ৬টি জাহাজ রয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ১০০টি জাহাজ আছে বাংলাদেশের বহরে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত