রাত পোহালেই ঈদুল আজহা। ভ্যাপসা গরম উপেক্ষা করে ঈদের শেষ মুহূর্তে চলছে কোরবানির পশুর বেচাকেনা। হাটের সবচেয়ে সুন্দর ও সাশ্রয়ী পশুটি ক্রয়ের জন্য এখনো ব্যস্ত ক্রেতারা। এবার বাড়তি দামের কারণে অনেক ক্রেতার নাগালের বাইরে পছন্দের পশু।
এদিকে গো-খাদ্যের উচ্চমূল্যের কারণে দামে ছাড় দিতে নারাজ বিক্রেতারাও। তবে গরুর দাম বেশি হলেও হাটে আগের তুলনায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বেশি গরু। তবে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর জানিয়েছে, এ সংখ্যা বিগত বছরের থেকে ৩৩ শতাংশ বেশি। এবারের ঈদুল আজহায় ১ কোটির ওপরে পশু বেচাকেনা হবে। ব্যবসা হবে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার। সব মিলিয়ে এবার ১ কোটি ২১ লাখ পশু কোরবানি দেয়া হবে বলে জানায় প্রাণিসম্পদ অধিদফতর।
প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের উপব্যবস্থাপক জিনাত সুলতানা বলেন, ‘গত বছর ৯০ লাখ ৮৩ হাজার পশু কোরবানি দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে গরু-মহিষ ছিল ৪০ লাখ ৫৩ হাজার ও ছাগল-ভেড়া ছিল ৫০ লাখ ২৮ হাজার। মোট ৪৬ হাজার কোটি টাকার পশু বেচাকেনা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘যেহেতু মহামারির মরণ থাবা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে, আমরা আশা করছি, এ বছর বিক্রি আরও বাড়বে। ধারণা করা যাচ্ছে, এবারের ঈদুল আজহায় ১ কোটির ওপরে পশু বেচাকেনা হবে। ব্যবসা হবে ৫০ হাজার কোটি টাকার।’
এদিকে গত কয়েকদিন হাট ঘুরে দেখা গেছে, কোনো হাটে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। মাঠজুড়ে সারি সারি সাজানো নানা রং ও আকারের গবাদি পশু। ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাকে মুখর প্রতিটি হাট। মাঝারি গরুর চাহিদা থাকলেও ধীরে ধীরে বড় গরুর দিকে নজর পড়েছে ক্রেতার। ২ লাখ বা এর কম দামের পশুর প্রতি ঝোঁক বেশি ছিল ক্রেতাদের।
বিগত দুবছরে করোনার প্রকোপে কোরবানির ঈদ ঘিরে খামারিদের ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এবার করোনার প্রকোপ অনেকটা কমে আসায় আশাবাদী ব্যবসায়ীরা। এ জন্যই গত বছরের তুলনায় এ বছর বাজারে উঠেছে অধিকসংখ্যক পশু।
গবাদি পশু বিক্রির সবচেয়ে লাভজনক বাজার বিবেচনা করা হয় ঈদুল আজহার মৌসুমকে। এবার কোরবানির উদ্দেশ্যে হাটে উঠেছে প্রায় ১ কোটি ২১ লাখ পশু। এর মধ্যে গরু-মহিষের সংখ্যা ৪৬ লাখ ১১ হাজার ও ছাগল-ভেড়ার সংখ্যা ৭৫ লাখ ১১ হাজার।
কোরবানির হাট সামনে রেখে ইতোমধ্যে ৪২ লাখ ৪০ হাজার গরু-মহিষ ও ৩৩ লাখ ৪৮ হাজার ছাগল-ভেড়া মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছিল প্রাণিসম্পদ অধিদফতর।
প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্যমতে, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ থেকে সিংহভাগ গবাদি পশু সরবরাহ করা হয়ে থাকে। স্থানীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা যায়, ‘এ বছর ১ লাখ ৭২ হাজার ৭২৯টি গরুর মধ্যে ১ লাখ ১১ হাজার ৩২৫টি গরু মোটাতাজাকরণ প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়েছে।’
এবারের কোরবানির বাজারে গবাদি পশুর দামও হবে আকাশচুম্বী হওয়ার কারণ হিসেবে খামারিরা জানান, দেড় লাখ টাকা দামের একটি গরুর পেছনে কম করে হলেও ৭০-৭৫ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।
খরচের কথা বলতে গিয়ে পাবনা এলাকার খামারি সিরাজুল বলেন, মাঝারি সাইজের একটি গরুর পেছনে প্রতিদিন ২০০-২৫০ টাকা এবং বড় সাইজের একটি গরুর পেছনে ৩০০-৩৫০ টাকা খরচ হয়। চলতি বছর গোখাদ্যের দাম বেড়েছে ৩০-৪০ শতাংশ। বর্তমানে প্রতি বস্তা গমের ভুসি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার টাকা, ডালের খৈল ১ হাজার ৮০০ থেকে ১ হাজার ৮৫০ টাকা ও ধানের ভুসি বিক্রি হচ্ছে বস্তাপ্রতি ৭০০ টাকা।
খাবারের দামের ব্যাপারে খামারিরা জানান, এক বছরের মাথায় গোখাদ্যের দাম বস্তাপ্রতি ২০০-৪০০ টাকা বেড়ে গেছে। এতে স্বভাবতই বাড়েছে কোরবানির পশুর দাম। তবে বেশি দামে কতজন খামারি পশু বিক্রি করতে পেরেছেন তা নিয়ে কিছুটা শঙ্কা রয়েছে।
পিএসএন/এমআই
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত