রাজধানীর নীলক্ষেতে তুলা মার্কেটে সরকারি জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দোকান দ্বিতীয় দিনের মতো উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।
সোমবার (৭ নভেম্বর) সকাল থেকে অভিযান পরিচালনা করতে দেখা যায়। এর আগে গতকাল গভীর রাত পর্যন্ত চলা এই অভিযানে ১৮৮টি অবৈধ দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
দ্বিতীয় দিনের মতো অভিযান পরিচালনা করছেন দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আফিফা খান। তিনি জানান, এখানের মার্কেট সমিতি আমাদের সহযোগিতা করছেন। অবৈধ এসব দোকান বাঙার পাশাপাশি নিচ তলার সামেন এসবং পেছনের কিছু অংশ অপসারণ করা হবে।
ডিএসসিসি সূত্রে জানা যায়, মার্কেটটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার নকশাবহির্ভূত এসব দোকান বরাদ্দের নামে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে কোটি কোটি টাকা। বারবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও অজ্ঞাত কারণে ভাঙা যায়নি এসব দোকান। সবশেষ সিটি করপোরেশন ভাঙার উদ্যোগ নেয়।
দোকানিদের দাবি— সিটি করপোরেশন অনেকটা জেদের বশেই দোকানগুলো ভাঙছে। এর কারণে বিনিয়োগকারীদের মোটা অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি অনেকের ব্যবসা বন্ধেরও উপক্রম হয়েছে।
এসব অবৈধ দোকান গড়ে ওঠা নিয়ে ডিএসসিসির তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, কিছু লোক ক্ষমতার অপব্যবহার করে দোকানগুলো গড়ে তোলে (২০১২ সালে), যার নেতৃত্ব দেন দক্ষিণ সিটির সার্ভেয়ার মুহাম্মদ মুরাদ হোসেন, সৈয়দ রুমান ও কানুনগো মোহাম্মদ আলী। তারা নিজেদের পছন্দের লোকদের মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় ৭৪টি ও তৃতীয় তলায় ৭৪টি মোট ১৪৮টি দোকান মাসিক প্রতি বর্গফুট ১৫ টাকা ভাড়া হিসেবে অস্থায়ী বরাদ্দ দেয়। শর্ত ছিল— বরাদ্দপ্রাপ্তরা নিজ খরচে দোকান নির্মাণ করবে। যদিও ডিএসসিসির সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত বিধিবিধান অনুযায়ী নিজ খরচে দোকান নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই।
অন্যদিকে মার্কেটের ৫০ নম্বর দোকান থেকে ৮৩/১ নম্বর দোকানের পেছনে পরিত্যক্ত জায়গা বরাদ্দের জন্য দক্ষিণ সিটির তৎকালীন প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন দোকান মালিক সমিতির সভাপতি এ কে এম সামছুদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন।
১৪৮টি দোকান এবং দোকানের পেছনের পরিত্যক্ত জায়গা স্থায়ী বরাদ্দের দাবিতে এই মার্কেটের দোকান মালিক ও বর্তমান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু শাহাদাত লাবলু ২০১৩ সালে একটি মামলা করেন।
সিটি করপোরেশন বলছে, আবেদনপত্রের সাথে আগের বৈধ বরাদ্দপ্রাপ্ত নিচতলার ৩৭ জন দোকান-মালিকের নাম, সই ও ঠিকানাসহ একটি তালিকা দেয় দোকান মালিক সমিতি। ওই তালিকার প্রতিটি পৃষ্ঠার নিচে সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর ছিল। নিচতলায় বরাদ্দপ্রাপ্তরা শুধু তাদের লাগোয়া দক্ষিণ পাশের পরিত্যক্ত অংশ ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন। বহুতল মার্কেট নির্মাণ কিংবা ওপরতলা বরাদ্দের জন্য আবেদন করেননি।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত