দীর্ঘদিন ধরেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। ভোজ্যতেল, চাল, ডাল আটা থেকে শুরু করে এমন কোনো পণ্য নেই যার দাম বাড়েনি। ফলে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে মানুষকে। পণ্যের এমন লাগামহীন দামের তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে জ্বালানি তেল।
গতরাতে অস্বাভাবিক হারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোয় নতুন করে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে মানুষের কপালে। বিশেষ করে নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ সামনের দিনে সংসার কিভাবে চালাবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তেলের দাম বাড়ায় প্রভাব অন্যান্য পণ্যেও পড়বে এমন আশঙ্কা থেকে সংসার চালাতে নতুন ছক কষছেন মানুষ।
শুক্রবার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর ফেসবুকে এক স্ট্যাটাস দিয়ে উদ্বেগের কথা জানান দেশের প্রথম সারির একটি বেসরকারি টেলিভিশনে কর্মরত আনোয়ার হোসেন। তিনি লিখেছেন, 'অধিকাংশই দেখছি গাড়ি নিয়ে শঙ্কিত। কিন্তু এবছর যে অনাবৃষ্টির। তাই বর্ষা মৌসুমে ধান চাষে সেচযন্ত্রের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। পূর্বাভাস আগামী দুই মাসে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হবে না। তেলের এত মূল্যবৃদ্ধিতে সেচযন্ত্র দিয়ে ধান চাষ চালিয়ে যেতে পারবে তো কৃষক? সামনের আমন মৌসুমে পর্যাপ্ত উৎপাদন করা যাবে তো? সম্প্রতি সারের দামও বেড়েছে। সবমিলিয়ে নানান শঙ্কা তৈরি হচ্ছে মনে।'
এত গেল আনোয়ার হোসেনের চিন্তার কথা। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় গণপরিবহনে ভাড়া বাড়বে। তাই কিভাবে কর্মস্থলে যাওয়া আসা করবেন তা নিয়ে নিজের পরিকল্পনা অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করতে গিয়ে আহমেদ বাপ্পী লিখেছেন, আপনারা নিজ নিজ গন্তব্যে হেঁটে হেঁটে যাওয়ার অভ্যাস করুন, খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে অফিসে রওনা দিবেন।
আর তেলের দাম বাড়ার ঘোষণার পরপরই সংসারে বিলাসজাত পণ্য ব্যবহার বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন শফিকুল ইসলাম সবুজ।
আর জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার খবর শোনার পর চিন্তায় পড়েছেন চাকরিজীবী সাদ্দাম হোসেন। তিনি বলেন, তেলের দাম বাড়ায় সংসার চালাতে নতুন হিসাব করছি। এখন মাছ-মাংস কেনা কমিয়ে দেবো বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এছাড়া আগে যে পথ রিকশায় যেতাম, এখন সে পথ হেঁটে যাবো বলে পরিকল্পনা করেছি।
গত নভেম্বরে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে এক লাফে ১৫ টাকা বাড়িয়েছিল সরকার। তখন দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ৮০ টাকা লিটার। ডিজেলের দাম বাড়ানোর পর বাসভাড়া বাড়ানো হয় প্রায় ২৭ শতাংশ, যা তেলের দাম বাড়ানোর হারের চেয়ে অনেক বেশি। একইভাবে তখন লঞ্চভাড়া বাড়ানো হয় ৩৫ শতাংশ। গতরাতে সেই তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৫০ ভাগ। ফলে নতুন করে বাস, লঞ্চ ও ট্রাকভাড়া বাড়বে। কিন্তু সেই ভাড়া কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা বলা মুশকিল।
এন আই
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত