নারায়ণগঞ্জের ধলেশ্বরী নদীতে লঞ্চের ধাক্কায় ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ আরও ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে ট্রলারডুবির ঘটনায় মোট ৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হল। এখনও নিখোঁজ দেড় বছরের শিশু তাফসিয়া।
সোমবার (১০ জানুয়ারি) সকালে তাদের মরদেহ ভেসে উঠে। উদ্ধারকৃতরা হল- জেসমিন আক্তারের ছেলে তামিম খান (৮), উত্তর গোপালনগরের মসজিদের মুয়াজ্জিন মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ (২২) ও বক্তাবলীর রাজানগর খাসমহলের মৃত মনসুর আলীর ছেলে সামসুদ্দিন (৬৫)।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন।
এর আগে, রোববার (৯ জানুয়ারি) ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তারা হলেন- নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বক্তাবলী ইউপির চর মধ্যনগর এলাকার সোহেল মিয়ার স্ত্রী জেসমিন আক্তার (৩০), তার মেয়ে তাসমিন আক্তার (১৬), চর বক্তাবলীর রাজু সরকারের ছেলে কলেজছাত্র সাব্বির হোসেন (১৮) ও বক্তাবলী ইউনিয়নের উত্তর গোপালনগরের মোতালেব (৪২), চর বক্তাবলীর আওলাদ হোসেন (৩২), বক্তাবলীর হাজীপাড়ার জলিল বেপারী জোসনা আক্তার।
এদিকে গত ৫ জানুয়ারি রাতে নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর নৌ নিরাপত্তা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক বাবু লাল বৈদ্য বাদী হয়ে লঞ্চ এমভি ফারহান ৬-এর মাস্টার, চালক ও সুকানিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেছেন। মামলায় গ্রেফতার ওই তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। আদালত রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ। আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে এ ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তদন্ত কমিটিকে।
প্রসঙ্গত, ৫ জানুয়ারি বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ এলাকায় ধলেশ্বরী নদীতে ঢাকাগামী এমভি ফারহান-৬ নামের লঞ্চের ধাক্কায় ৪০-৫০ যাত্রীসহ খেয়া পারাপারের একটি ট্রলারডুবে যায়। এতে নিখোঁজ হয় অন্তত ১০ জন।
পিএসএন/এম আই
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত