বাগানের নারিকেল ও লেবু তোলা সন্দেহে এক স্কুল ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় হত্যাকারী গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। গ্রেফতারকারি ওই ছাত্রের সম্পর্কে দাদা হন। হত্যার শিকার স্কুলছাত্র জিসান (১৭) মালয়েশিয়া প্রবাসী নজরুল ইসলাম হাওলাদারের একমাত্র ছেলে এবং লক্ষীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র ছিল।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগ সিআইডি প্রধান কার্যালয় এসব কথা জানান বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর।
গত ২৮ এপ্রিল সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে বরিশালের মুলাদী এলাকার জালালাবাদ গ্রামের আবুল কাশেম হাওলাদারের বসতঘরের উঠানে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহত স্কুলছাত্র জিসানের মা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে আবুল কাশেম হাওলাদারকে (৬৬) কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে সিআইডি।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবুল কাশেম হাওলাদার সিআইডিকে জানিয়েছে, ২ বছর পূর্বে তার স্ত্রী মারা যায়। তার দুই ছেলে। বড় ছেলে নজরুল ইসলাম হাওলাদার প্রায় ১৩ বছর যাবৎ মালয়েশিয়া প্রবাসী। ছোট ছেলে আজিজুল কৃষিকাজ করে। সে তার ছোট ছেলের সাথে খাওয়া-দাওয়া করে। বড় ছেলে তার খরচের জন্য মাঝে মাঝেই ছোট ছেলের কাছে বিদেশ হতে টাকা পাঠায়। তাদের বাড়ীর পিছনে নারিকেল ও লেবুর বাগান রয়েছে। ২৭ এপ্রিল রাতের আঁধারে কে বা কারা যেন গাছ হতে নারিকেল ও লেবু পেড়ে নিয়ে যায়। সকালবেলা ছোট ছেলে আজিজুলের স্ত্রী-আঁখিনুর বেগম (২২) গাছে ফল না দেখে বড় ছেলের বৌ ও তার ছেলে-মেয়েকে সন্দেহ করে গালিগালাজ করে। পরে তা তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি ও হাতাহাতি হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানিয়েছে, আজিজুল, আঁখিনুর বড় বৌ জেসমিন ও তার মেয়ে নাজমুন নাহার ওরফে শিখাকে মারধর করতে থাকলে তাদের চিৎকারে তার নাতি জিসান ঘর থেকে বের হয়ে তার মা ও বোনকে ছাড়িয়ে নেয়।
তখন আজিজুলের সাথে তার তর্কাতর্কি হতে থাকলে সে আজিজুলের পক্ষ নিয়ে উঠানে থাকা ক্রিকেট খেলার কাঠের ব্যাট পেয়ে জিসানের মাথা বরাবর বারি মারলে জিসান তাৎক্ষণিকভাবে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তারা ঘটনাস্থল হতে পালিয়ে যায়। আশপাশের লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় জিসানকে উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আশংকাজনক অবস্থায় তাকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ, বরিশাল এ রেফার করে। হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করলে ২৮ এপ্রিল জিসান মারা যায়।
বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর জানান, মূলত বাগানের নারিকেল ও লেবু তোলাকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকান্ড ঘটে। তবে এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেফতারকৃত আবুল কাশেম হাওলাদারকে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
পি এস/এন আই
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত