ভুল? নাকি ভুল বোঝাবুঝি? নারী জাতীয় ফুটবল দলকে মিয়ানমার পাঠাতে না পারার পর সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণ কোনটা? বাফুফে বলছে ভুল বোঝাবুঝি। যে কারণেই হোক, নারী ফুটবল দল নিয়ে একটা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে বাফুফে।
দীর্ঘ এক যুগ যারা নারী ফুটবলারদের ক্যাম্পে রেখে, ট্রেনিং করিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা বানিয়েছে, সেই বাফুফেই এখন কাঠগড়ায়। একটি সিদ্ধান্ত তাদের সব অর্জনকে পেছনে ফেলে দাঁড় করিয়েছে সমালোচনার মুখে।
২৯ মার্চ থেকে শুরু হয়ে ক্রীড়াঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে নারী ফুটবল দল। সব সমালোচনার তীর বাফুফের দিকে। অথচ এ বছরই নারী ফুটবলের রয়েছে আরও অনেক ইভেন্ট। তখন কী হবে?
সবকিছু নিয়েই বুধবার জরুরী সভায় বসেছিল বাফুফের নির্বাহী কমিটি। কাজী মো. সালাউদ্দিনের সভাপতিতে এই সভায় অনেকে যোগ দিয়েছিলেন জুমেও। এই সভার একটাই এজেন্ডা ছিল নারী ফুটবল। জাতীয় দল ও বয়সভিত্তিক দলের বছরব্যাপী যে খেলাগুলো আছে সেখানে অংশগ্রহণ করা, করতে গেলে অর্থের যোগান কোথা থেকে আসবে-এসব।
সাবিনাদের মিয়ানমার না পাঠিয়ে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে বাফুফে, সেরকম আর পড়তে চায় না তারা। যে কারণে, বছরব্যাপী মেয়েদের কী কী খেলা আছে, তার একটা বাজেট তৈরি করে দরকার হলে আগেই যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে টাকা চাইবে বাফুফে।
সভা শেষে গণমাধ্যমকে ব্রিফিং করেন বাফুফের সহসভাপতি আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিক। তিনি বলেছেন, ‘এ বছর নারী ফুটবল দলের যে টুর্নামেন্টগুলো আছে, সেগুলোতে অংশ নিতে গেলে আমাদের সুবিধা-অসুবিধা কী, সেটাই ছিল সভার প্রধান আলোচ্য বিষয়। নারী দলের এ বছরের টুর্নামেন্টগুলো করতে গেলে আমাদের যে আর্থিক বিষয়টা আছে, তা ফিফা ও এএফসি এবং পৃষ্ঠপোষকদের কাছ থেকে যে অর্থ পাচ্ছি এবং পাবো তারপর আমাদের ঘাটতি থাকবে। সেটা নিয়ে খুব দ্রুত একটা বাজেট তৈরি করে বোর্ডে আলোচনা করবো। প্রয়োজনে ঘাটতির অর্থ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে চাইবো। যাতে আগামীতে মেয়েদের দল পাঠাতে এ রকম সমস্যার মুখোমুখি হতে না হয়।’
এ বছর মেয়েদের সামনে এসাইনমেন্টগুলো উল্লেখ করে বাফুফে সহসভাপতি বলেন, ‘আমাদের সামনে আরও পাঁচটি টুর্নামেন্ট আছে। এর মধ্যে এ মাসেই সিঙ্গাপুরে খেলা আছে অনূর্ধ্ব-১৭ মেয়েদের। ২০২৩ সালে আমরা আরো তিনটি ফিফা উইন্ডো পাবো জুলাই, অক্টোবর ও ডিসেম্বরে। তিনটা ফিফা উইন্ডোতে আমরা দুটি করে ৬টি ম্যাচ খেলবো হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে। আমরা সেভাবেই পরিকল্পনা তৈরি করছি। আমরা যদি সিঙ্গাপুরের এই বাছাইপর্ব ভালো করতে পারি, তাহলে এশিয়ান কাপের কোয়ালিফাইং রাউন্ড টুতে খেলতে পারবো। খেলায় অংশ নিতে আমাদের যে টাকার দরকার, তাতে আনুমানিক আড়াই থেকে তিন কোটি টাকা ঘাটতি আছে। কিছুদিনের মধ্যে বাজেট করে আমরা জানাতে পারবো। আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত অর্থের সংস্থান আছে (পাওয়া যাবে) আনুমানিক ৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।’
অভিযোগ উঠেছে, বাফুফেতে কিছু সিদ্ধান্ত হয় যা সদস্যদের অনেকে জানেন না। এমনকি আপনাকেও জানানো হয়নি। কতটা সত্য? এ প্রসঙ্গে আতাউর রহমান মানিক বলেন, ‘আমি তো ছিলাম না দেশে। তাছাড়া আমাকে জানানো হয়নি, সেটা কে বললেন? সভায় তো কোনো সদস্য বললেন না যে, তারা জানেন না। সভার বাইরে গিয়ে বললে তো হবে না। এসব কথা সভায় বলা দরকার। আমার কোনো কিছু জানার দরকার হলে আমি সভাতেই জানতে চাই। এটা তো আমাদের বলার জায়গা, জানার জায়গা। সভায় কথা বলতে না দিলে তখন বাইরে বলবো। সভায় কোনো কথা না বলে বাইরে বলা ঠিক না।’
এখন সরকারের কাছে টাকা চাইবেন। কিন্তু এরই মধ্যে তো যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একটা বিভাজন ও দূরত্ব তৈরি হয়েছে আপনাদের। তাহলে? এমন প্রশ্নের জবাবে বাফুফের সহসভাপতি বলেন, ‘সরকারের সঙ্গে আমাদের বিভাজন বা দূরত্ব তৈরি হয়নি। যা কথাবার্তা শুনছি তাতে বিভাজনের কিছুই মনে করি না। তবে একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। এটা হতেই পারে। মানুষের সংসারেও হয়, বাবা-ছেলের মধ্যেও হয়। ফুটবল দেশের জনপ্রিয় খেলা। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় খেলার জগতে সবার ওপরে। কেউ ভুল করলে সেটা তারা সংশোধন করবে, সেটাই তাদের কাজ। তারা ভুল সংশোধন করে দেবে, দূরে তো ঠেলে দেবে না।’
সাধারণ সম্পাদক মো. আবু নাইম সোহাগ বলেন, ‘আমাদের সভার এজেন্ডা ছিল নারী জাতীয় ফুটবল দল ও বয়সভিত্তিক দলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা। এ বছরে মেয়েদের ৯টি ইভেন্ট। এর মধ্যে চারটা শেষ হয়েছে। তিনটিতে অংশগ্রহণ করেছি, একটিতে পারিনি। একটা এ মাসেই। এরপর আরও চারটা ইভেন্ট আছে। তাই আমাদের মনে হয়েছে, এসব নিয়ে পর্যালোচনা করা দরকার। আমাদের কি পরিমাণ টাকা দরকার হবে এবং আমরা কি পাবো সেটা নির্ধারণ করা প্রয়োজন ছিল। আমাদের বছরের বাকি সময়ে মেয়েদের বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার জন্য ৮ কোটি ২০ লাখ টাকা দরকার। আমরা বিভিন্ন সোর্স থেকে পাবো ৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এখানে একটা ঘাটতি আছে আড়াই থেকে তিন কোটি টাকা। এই টাকা নিয়ে আমরা একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হবো কিনা, আবারও আমাদের ঘোষণা দিতে হবে কিনা যে, দল যাচ্ছে না; আমাদের অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা নিয়ে আমরা সভায় আলোচনা করেছি। এখন থেকে আমরা প্রতিটি টুর্নামেন্ট ধরে ধরে বাজেট নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বসে আলোচনা করবো।’
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত