নিরাপত্তা সহায়তা পেতে হলে সরকারগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করতে হবে। লেহি আইনে কারো ছাড় পাওয়ার সুযোগ নেই। এটি বৈশ্বিক বাধ্যবাধকতা। বাংলাদেশসহ মার্কিন সহায়তা নেওয়া সব দেশের জন্যই এ আইন প্রযোজ্য।
ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা গতকাল রবিবার এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অন্য কোনো দেশের কথায় লেহি আইন পরিবর্তনের সুযোগ নেই। ১৯৯৭ সাল থেকেই লেহি আইন আছে। গত বছর সেই আইনে নতুন ধারা যোগ করে বলা হয়েছে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আছে—এমন কেউ মার্কিন সহায়তা পাবে না।
বাংলাদেশ এখনো এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করেনি। বাংলাদেশ তার স্বার্থের বিষয়টি সংরক্ষিত রাখার পাশাপাশি আগাম আলোচনা, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ রেখেই চুক্তি করতে চায়। বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর স্বার্থের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের লেহি আইনে যোগ করার সুযোগ আছে কি না জানতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কর্মকর্তা বলেন, লেহি আইন যুক্তরাষ্ট্রের আইন। সেখানে অন্য দেশের প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিবর্তনের সুযোগ নেই।
বাংলাদেশ এখনো চুক্তি না করায় যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা কি বন্ধ হয়ে গেছে—এ প্রশ্নের জবাবে দূতাবাসের কর্মকর্তা বলেন, ‘বন্ধ হয়নি। বাংলাদেশ নিরাপত্তা খাতে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। সম্মতি বা অবস্থান জানাতে অনেক দেশ সময় নিতে পারে। এ বিষয়ে জানানোর সুযোগ এখনো আছে। ’
যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ওই কর্মকর্তা বলেন, গত ১০ ডিসেম্বর র্যাব ও এর সাবেক-বর্তমান সাত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র ও অর্থ দপ্তরের নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে লেহি আইনের কোনো সম্পর্ক নেই। সেই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের গ্লোবাল ম্যাগনিটস্কি অ্যাক্ট এবং ২০২১ সালের পররাষ্ট্র দপ্তর, বৈদেশিক কার্যক্রম ও এসংক্রান্ত কর্মসূচিবিষয়ক আইনের ৭০৩১(গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী।
এই কর্মকর্তার তথ্য হলো, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ আছে—এমন কাউকে মার্কিন সহযোগিতা না দেওয়ার কথা বলা আছে লেহি আইনে। যুক্তরাষ্ট্র লেহি আইনের মাধ্যমে ২০১৮ সালেই র্যাবকে নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা পাওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষণা করেছে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, লেহি আইনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র জানতে চায় যে তাদের দেওয়া সহায়তা মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী কোনো বাহিনী, ইউনিট বা সংস্থা পাচ্ছে কি না। তাই যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা কোন বাহিনী কিভাবে কাজে লাগাচ্ছে, তা সরকারকে জানানোর কথা রয়েছে। আইনটি পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ সম্মতি না জানানোর কোনো প্রভাব বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পড়েনি।
এই কর্মকর্তা বলেন, লেহি আইন প্রথম হয় ১৯৯৭ সালে। সেটি মেনেই বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নিরাপত্তা সহযোগিতা পাচ্ছে। সম্প্রতি ওই আইনে সূক্ষ্ম কিছু পরিবর্তন এসেছে। নতুন ধারা যুক্ত হওয়ার পর লেহি আইন গত ১ জানুয়ারি কার্যকর হয়েছে।
লেহি আইন ও নিষেধাজ্ঞা—এ দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা বলেন, লেহি আইন হলো মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধে ব্যবস্থা। নিষেধাজ্ঞা হলো মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে ব্যবস্থা। দুটির বিষয়ে আইন ভিন্ন। লেহি আইন নিরাপত্তা বাহিনী ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সদস্যদের মানবাধিকারের প্রতি সম্মান জানানো নিশ্চিত করে। মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা পাচ্ছে না—এটি লেহি আইনের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়।
র্যাবের মতো ইউনিটে যেখানে অন্য বাহিনীর সদস্যরা যুক্ত হন, সেখানে নিষেধাজ্ঞা কিভাবে কার্যকর হবে—জানতে চাইলে দূতাবাস কর্মকর্তা বলেন, অন্য কোনো বাহিনীর কোনো সদস্য র্যাবে এসে মানবাধিকার লঙ্ঘন করলে এর দায় র্যাবের। তিনি যখন নিজ বাহিনীতে ফিরে যাবেন তখন র্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা আর তাঁর ওপর বহাল থাকবে না। তবে ব্যক্তিগতভাবে যেসব কর্মকর্তা নিষিদ্ধ হয়েছেন, তাঁদের বিষয় ভিন্ন।
জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে সদস্য নিয়োগের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে দূতাবাস কর্মকর্তা বলেন, এ বিষয়ে যাচাই-বাছাইয়ের বিষয়টি ঢাকায় জাতিসংঘ কার্যালয় করে। এখানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা নেই।
বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ‘জোরালো’ হিসেবে উল্লেখ করে দূতাবাস কর্মকর্তা আশা করেন, এ সম্পর্ক আরো জোরদার হবে। এ বছর ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নিরাপত্তা খাতে আরো জোরালো সম্পর্ক গড়ে ওঠার সুযোগ আছে।
পি এস/এন আই
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত