নির্বাচনের ঢামাঢোল শুরু হয়েছে। বছর শেষে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আর এর আগেই জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) জন্য ২৬১টি বিলাসবহুল গাড়ি কিনতে ৩৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাতে যখন কৃচ্ছতা সাধন করছে সরকার, তখন ৩৮০ কোটি টাকার বিলাসবহুল স্পোর্টস কার কেনার আবদার করেছে মন্ত্রণালয়টি। নতুন গাড়ি না কিনতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা জারির তিন সপ্তাহের মধ্যেই এই গাড়ির কেনার টাকা চায় তারা। আগামী নির্বাচনে নাকি গাড়ি নিয়ে ডিসি ও ইউএনওদের বেশ দৌড়ঝাঁপ করতে হবে।
যদিও বিষয়টিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, দেশের জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কার্যালয় থেকে এসব গাড়ি চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে টাকা দেওয়া হবে কি না সেই সিদ্ধান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বলছে, বেশিরভাগ গাড়িরই মেয়াদ শেষ। এই সংক্রান্ত একটি চিঠি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়কে।
গতকাল বুধবার (১৯ জুলাই) অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, সামনে জাতীয় নির্বাচন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ নানা কাজেই ব্যস্ততা বাড়বে জেলা প্রশাসক আর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের। এ জন্য কর্মকর্তাদের জন্য লাগবে নতুন জীপ গাড়ি, যার মডেল হবে মিতসুবিশি পাজেরো স্পোর্টস কিউএক্স। যার প্রতিটির দাম ধরা হয়েছে ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।
এর আগে, খোদ অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে গাড়ির সংখ্যা ৪৬১ থেকে কমিয়ে ২৬১ তে আনা হয়। সব ঠিক থাকলে এই খাতে সরকারকে গুণতে হবে ৩৮০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।
তবে অর্থ মন্ত্রণালয় প্রশ্ন তুলেছে, ৬১ জেলা প্রশাসক আর ২০০ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ির ১৪ বছরের মেয়াদ একই সময়ে শেষ হয় কিভাবে? যেখানে প্রতিবছরই নতুন গাড়ি কেনার বায়না করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, খরচ হয় নির্ধারিত বরাদ্দও। এমন প্রেক্ষিতে পাল্টে যেতে পারে কৃচ্ছতা সাধনের সব হিসেব-নিকেশ।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত