ভোটের আগে মাঠের চ্যালেঞ্জ জানতে সব জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে ঢাকায় আমন্ত্রণ জানিয়েছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত শনিবারের ডাকা সেই বৈঠকে কমিশনার আনিছুর রহমানের এক বক্তব্য নিয়ে রীতিমত হট্টগোল বাধে নির্বাচন কমিশন ভবনের অডিটোরিয়ামে। এক পর্যায়ে বক্তব্য বন্ধ করে দেন এই কমিশনার। জানা গেছে, সেদিন ওই ঘটনার প্রভাব পড়ে অনুষ্ঠানের বাকি সময়। এক ধরনের ছন্দপতন ঘটে গুরুত্বপূর্ণ ওই বৈঠকের। যা নিয়ে রীতিমত বিব্রত নির্বাচন কমিশনাররা।
তারা বলছেন, অপ্রিয় হলেও সেদিন ভোটের মাঠের অভিযোগ নিয়ে সত্য কথা বলেছিলেন কমিশনার আনিছুর রহমান। কিন্তু তা নিয়ে এমন প্রতিক্রিয়া হবে তা ভাবনাতেও ছিল না।
নির্বাচন ভবনে মতবিনিময় সভায় দেশের ৬১ জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারের (এসপি) হইচইয়ে বিব্রত হয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) রাশেদা সুলতানা। তবে এ ঘটনায় তিনি বিচলিত নন বলে জানিয়েছেন।
রাশেদা সুলতানা বলেন, ইসি আনিছুরের কথা উনাদের ভালো লাগেনি, তবে কথাগুলো সত্য এবং অমূলক নয়।
তবে এ ঘটনায় মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে ইসির সম্পর্কের অবনতি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন কোনো কোনো কমিশনার।
সোমবার (১০ অক্টোবর) কমিশনার রাশেদা সুলতানা সেদিনকার ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করে সাংবাদিকদের বলেন, 'হইচই করাটা তাদের ঠিক হয়নি। এটা সত্য কথা। পরিবেশটা তৈরি হওয়াটা কোনোভাবেই ঠিক হয়নি। সাময়িকভাবে বলবো, মনে একটু খারাপ লাগছে। বিব্রত তো বটেই, কারণ ওরকম একটা ঘটনা কে চায়? মাথার মধ্যেই তো আনতে পারিনি ওরকম একটা পরিস্থিতি তৈরি হবে।'
রাশেদা বলেন, 'যেটা গেছে গেছে, ওটা নিয়ে আমরা এত বিচলিত না। বিচলিত হওয়ার কোনো কারণ আছে বলে আমি মনে করি না।'
শনিবারের বৈঠকে গত নির্বাচনে ও জেলা পরিষদ ভোটে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পক্ষপাতমূলক আচরণের বিষয়টি বক্তব্যে তুলে ধরেন ইসি আনিছুর রহমান। তখনই সভাকক্ষে হইচই সৃষ্টি হয়। ডিসি-এসপিদের আপত্তির মুখে সেই কমিশনার তার বক্তব্য শুনতে চান না বলেও জানান। পরে বক্তব্য থামিয়ে চলে যান আনিছুর রহমান।
অবশ্য সেদিনকার ঘটনা নিয়ে এখন পর্যন্ত গণমাধ্যমে কোনো কথা বলতে রাজি হননি এই কমিশনার। যদিও তাঁর সহকর্মীরা কথা বলেছেন।
ইসি মো. আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, ডিসি-এসপিদের সাথে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার সুযোগ নেই। সোমবার তাকেও নিজ দফতরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হতে হয়।
এ ঘটনার জেরে ইসির ইমেজ ক্ষুণ্ন হয়েছে কি না, জানতে চাইলে এই কমিশনার বলেন, ওই বিষয় পাস্ট অ্যান্ড ক্লোজড।
আরেক প্রশ্নের জবাবে এই কমিশনার বলেন, বিষয়টা শেষ হয়ে গেছে। সাকসেসফুলি আমাদের আলোচনা শেষ হয়েছে। আমাদের আলোচনা তারা মন দিয়ে শুনেছেন। তারা যেসব সমস্যার কথা বলেছে আমরাও বলেছি, সেগুলো সমাধানে আমাদের সীমিত সক্ষমতার মধ্য দিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
ইসি আলমগীর বলেন, 'আমাদের এখানে এটা একটা টিম ওয়ার্ক। টিমে নানা রকমের সদস্য থাকেন, দ্বিমত থাকে। তারপর বিতর্ক হয়, আলোচনা হয়।'
সাবেক এই ইসি সচিব বলেন, এখানে সবাই আমরা দায়িত্ব পালন করতে এসেছি। যে দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হবেন তাকে বাদ দেওয়া হবে। কারণ প্রতিষ্ঠান তো থাকবে। মানুষ চেঞ্জ হতে পারে৷ প্রতিষ্ঠান তো চেঞ্জ হবে না। কমিশনে আমি যদি আমার রোল প্লে না করতে পারি আমি তো থাকব না। আমার পরিবর্তে আরেকজন আসবে।'
এদিকে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগ নির্বাচন কমিশন থেকে স্বরাষ্ট্র ও সেবা সুরক্ষা বিভাগে চলে যাওয়ার প্রসঙ্গে নিয়ে কমিশনার রাশেদা সুলতানা বলেন, 'কমিশনের আসলে উদ্যোগ নেওয়ার স্কোপ নেই। এই প্রক্রিয়া আমাদের সময়ে শুরু হয়নি। আমরা এন্ডিং অবস্থায় পাচ্ছি। বিষয়টা পুরোটাই সরকারের পলিসির ব্যাপার। আমি বলবো না ভালো হবে বা মন্দ হবে। যাওয়ার বিষয়টা আমাদের সময়ে কিছুই হয়নি। যা কিছু ঘটার আগেই ঘটে গেছে। '
আজ মন্ত্রিসভা এ সংক্রান্ত বিষয় অনুমোদন দিয়েছে। যদিও ইসির পক্ষ থেকে এ নিয়ে তুমুল আপত্তি ছিল।
আর রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন যথাসময়ে হবে উল্লেখ করে এই কমিশনার বলেন, যেখানেই নির্বাচনী পরিবেশ বিঘ্নিত হবে আমরা নির্বাচন বন্ধ করে দেবো। এটা পরিষ্কার কথা।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত