বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতায় ১৭২ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ কাজ শেষ হবে ২০২৪ সালের জুনে। এতে রাজধানীর সঙ্গে সংযুক্ত হবে দক্ষিণ-পশ্চিমের নয়টি জেলা।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মলিকপুর ইউনিয়নের নিজ গ্রাম করফায় বাবার নামে ১০ শয্যা বিশিষ্ট ‘অধ্যাপক শেখ মোঃ রোকন উদ্দিন আহমেদ মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। এ সময় সেনাপ্রধানের স্ত্রী, সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং নড়াইল জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
ছেলে বেলার স্মৃতিচারণ করে সেনাপ্রধান বলেন, করফা গ্রাম আমার পৈতৃক ভিটা। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এখানে আমি ছিলাম। স্বাধীনতা যুদ্ধে আমার বাবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
এদিকে সেনাবাহিনীর প্রধান নিজ গ্রামে আসায় আনন্দিত নড়াইলবাসী। সেনাপ্রধানকে এক নজর দেখার জন্য ভিড় করেন হাজারো মানুষ।
এর আগে তিনি মধুমতি রেলওয়ে ব্রিজের কাজের অগ্রগতি এবং বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন। তিনি কালনা এলাকায় সেনাবাহিনীর বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করেন এবং প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেন।
এছাড়াও সেনাপ্রধানের বাবা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক এস এম রোকন উদ্দিন আহমেদ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মলিকপুর ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবের কার্যক্রম পরিদর্শন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম রোকন উদ্দিন আহমেদ ভবন উদ্বোধন করেন। বিদ্যালয়টির পক্ষ থেকে সেনাপ্রধানকে তার বাবার একটি ছবি ও মানপত্র দেওয়া হয়। এসময় সেনাপ্রধান শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবকবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এছাড়া লোহাগড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ১২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকা ‘অঙ্কুরে’র মোড়ক উন্মোচন করেন সেনাবাহিনীর প্রধান।
এরপর তিনি নড়াইল সরকারি আদর্শ মহাবিদ্যালয়ে গেলে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) তাকে গার্ড অব অনার দেয়। এখানেও শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।
সেনাপ্রধান আসন্ন শীতকালীন প্রশিক্ষণ উপলক্ষে ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের প্রস্তাবিত প্রশিক্ষণ, অপারেশন ও লজিস্টিকসের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেন।
এসময় চিফ কনসালটেন্ট জেনারেল, এডহক কনস্ট্রাকশন সুভারভিশন কনসালটেন্ট মেজর জেনারেল এ কে এম রেজাউল মজিদ, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি এবং জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও এরিয়া কমান্ডার, যশোর এরিয়া মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মাহবুবুর রশীদ এবং যশোর এরিয়ার ঊর্ধ্বতন সেনাকর্মকর্তারা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
করফা গ্রামের কৃতিসন্তান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ ২০২১ সালের ২৪ জুন তিন বছরের জন্য সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ পান।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত