
পাইকগাছা পৌরসভার হাসপাতাল রোড সংলগ্ন এলাকা থেকে গতকাল মঙ্গলবার বিশ্বজিৎ দেউড়ি (২৫) নামে এক আরএফএল কর্মকর্তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি আরএফএল-এর পাইকগাছা শাখায় সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ (এসআর) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনার পর থেকে তার সহকর্মী ও রুমমেট অন্তর সরকার (২৩) ব্যবহৃত মোটরসাইকেলসহ লাপাত্তা রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাসপাতাল রোডের নিউ মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার সংলগ্ন রাম প্রসাদ মন্ডলের দোতলা বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে গত দুই মাস ধরে একসঙ্গে বসবাস করছিলেন ঝালকাঠি সদরের বেতরা গ্রামের হিরালাল দেউড়ির ছেলে বিশ্বজিৎ দেউড়ি এবং মাদারীপুরের কালকিনী উপজেলার ল²ীপুর ফাঁসিয়াতলা গ্রামের লিটন সরকারের ছেলে অন্তর সরকার (২৩)। অন্তর সরকার আরএফএল-এর সহকারী টেকনিশিয়ান হিসেবে কর্মরত।
গত সোমবার রাত ৯:৪০ টার দিকে তারা দু’জনে স্থানীয় আব্দুস সাত্তারের দোকান থেকে স্পিড ও নাস্তা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে গতকাল মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্তদু’জনেরই মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাদের সহকর্মী নয়ন রায় (২৬) খোঁজ নিতে বাসায় যান। সেখানে গিয়ে তিনি ঘরের সামনে রক্ত ও একটি ছুরি পড়ে থাকতে দেখে তাৎক্ষণিকভাবে পাইকগাছা থানা পুলিশকে খবর দেন। সংবাদ পেয়ে পাইকগাছা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আমীর হামজা ও পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) জুলফিকার আলী সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। কক্ষটি বাইর থেকে তালাবদ্ধ থাকায় পুলিশ তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মেঝেতে বিশ্বজিৎ দেউড়ির রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে কোনো পূর্ব শত্র“তার জেরে সোমবার রাত ১০ টা থেকে মঙ্গলবার দুপুর ২ টার মধ্যে যেকোনো সময়ে সহকর্মী অন্তর সরকার বিশ্বজিৎকে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে বাইরে থেকে তালা আটকে তার মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে গেছে।
পাইকগাছা থানা পুলিশ জানিয়েছে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও অভিযুক্ত অন্তর সরকারকে গ্রেফতারে এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত