পাকিস্তানে ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র পড়ার ঘটনায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, পাঞ্জাব প্রদেশে ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর পাকিস্তানও পাল্টা মিসাইল ছুড়তে পারত। কিন্তু আমরা ধৈর্যধারণ করেছি। খবর ইকোনিমিক টাইমসের।
তিনি বলেন, মিয়া চান্নুতে ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র পড়ার পর আমরা পাল্টা জবাব দিতে পারতাম কিন্তু আমরা সংযম পালন করেছি।
রোববার (১৩ মার্চ) বিকেলে পাঞ্জাবের হাফিজাবাদ জেলায় এক জনসভায় ভাষণে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
এ সময় নিজ দেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি সম্পর্কেও কথা বলেন ইমরান খান। তিনি বলেন, আমাদের প্রতিরক্ষা এবং দেশকে শক্তিশালী করতে হবে।
এর আগে শনিবার (১২ মার্চ) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ যে প্রস্তাব দিয়েছে, এ রকম সাধারণ একটি ব্যাখ্যা দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সমাধান হওয়া উচিত না। কাজেই দুর্ঘটনাকে ঘিরে ঘটনাবলীকে নির্ভুলভাবে প্রমাণ করতে একটি যৌথ তদন্ত দরকার।
শুক্রবার ভারত জানিয়েছে, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের সময় কারিগরি ত্রুটির কারণে চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানের ভূখণ্ডে একটি ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এর আগে ভারতকে অপ্রীতিকর পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছিল পাকিস্তান।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, পারমাণবিক পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলতা আনতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারে। যদি কোনো একটি পক্ষের ভুলব্যাখ্যায় উত্তেজনা বাড়ে, তবে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে।
এর আগে ভারতের একটি নিরস্ত্র সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র পাকিস্তানে গিয়ে আঘাত হেনেছে। বুধবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় হরিয়ানার সিরসা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি উড়ে এসে পাকিস্তানের ভূখণ্ডের ১২৪ কিলোমিটারের মধ্যে পড়েছে।
এটি ছিল চল্লিশ হাজার ফুট উচ্চতার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। এতে ভারত-পাকিস্তান দুই দেশেরই যাত্রীবাহী ফ্লাইট, বেসামরিক নাগরিক ও সম্পদ ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছিল।
এ নিয়ে উচ্চ-পর্যায়ের একটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে ভারতীয় সরকার। পাকিস্তানের আইএসপিআরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল বাবর ইফতিখার বলেন, পাঞ্জাব প্রদেশের মিয়া চান্নুতে এসে ক্ষেপণাস্ত্রটি পড়েছে। এতে পাকিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করা হয়েছে।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটির আঘাতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। যেখানে সেটি পড়েছে সেখানে কোনো স্পর্শকাতর স্থাপনা নেই।
২০০৫ সালে সই হওয়া ভারত-পাকিস্তানের চুক্তি অনুসারে, দুই দেশই কোনো ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করতে চাইলে প্রতিবেশী দেশকে তা অন্তত তিন দিন আগে জানাতে হবে। আর পরীক্ষার কোনো প্রভাব যাতে ৭৫ কিলোমিটারের মধ্যে না পড়ে, তাও নিশ্চিত করতে হবে।
পিএসএন/এমঅাই
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত