সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য রাজধানীর হাজারীবাগ বটতলা বাজার এলাকার ঢালে বস্তির মাঝে স্কুল গড়ে তুলেছিলেন ওমর ফারুক ওরফে সম্রাট। সেই সঙ্গে তার সারথি হয়ে নিজেদের পড়াশোনা ও কাজের ফাঁকে স্কুলটিতে অবৈতনিক শিক্ষক হিসেবে পাঠদানও চালাতেন ১৫ জন শিক্ষক। তবে পুড়ে ছাই হয়েছে স্বপ্নের সেই স্কুলটি। সঙ্গে জ্বলেছে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বইও।
বুধবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বটতলা বাজার বস্তিতে আগুন লাগলে ওই স্কুলটিও পুড়ে ছাই হয়ে যায়। টিনের ঘরে তৈরি স্কুলর মাঝে এখন পড়ে আছে শুধু শিশুদের পোড়া বই-খাতা-পেন্সিল।
বাটারফ্লাই স্কুল ফর ডিপ্রেস চিলড্রেন নামের ওই স্কুলটিতে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান করাতেন নূরুল আমিন। ঢাকা মেইলের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, স্কুলটিতে ১২০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের সবাই সুবিধাবঞ্চিত শিশু। বিনামূল্যে শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষা উপকরণ দেওয়াসহ সপ্তাহে দুদিন তাদের খাবারও দেওয়া হতো।
তবে আগুনে শিশুদের বই-খাতার পাশাপাশি স্কুলটিতে থাকা সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণও পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
আমাদের এখানে খাতা, কলম, বই, পেন্সিলসহ সবমিলে লক্ষাধিক টাকার শিক্ষা উপকরণ ছিল। নিজেদের অর্থায়ন, বিভিন্নজনের সাহায্য নিয়ে বাচ্চাদের জন্য স্কুলটি করা। আমাদের স্বপ্নগুলো সব ছাই হয়ে গেল।
ঢাকা মেইলকে বাটারফ্লাই স্কুল ফর ডিপ্রেস চিলড্রেন স্কুলের শিক্ষক মো. রাকিব
স্কুলটির শিক্ষকরা আরও জানিয়েছেন, বর্তমানে শিশুদের পরীক্ষা চলছিল। তবে বুধবারের এই দেড় ঘণ্টার আগুন এসব সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের এগিয়ে যাওয়ার পথটাকে যেন আরও কঠিন করে দিল।
উল্লেখ্য, বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে রাজধানীর হাজারীবাগের বটতলা বাজার বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। পরে খবর পেয়ে প্রথমে ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। এরপর আরও সাতটি ইউনিট যোগ হয়। সবশেষ আরও একটি ইউনিট যোগ হয়ে মোট ১০টি ইউনিট দীর্ঘ দেড় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে পুড়ে ছাই হয়ে যায় প্রায় ৩০০ পরিবারের সাজানো বাটারফ্লাই স্কুল ফর ডিপ্রেস চিলড্রেন স্কুলটি।
পি এস / এন আই
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত