সোমবার গলে সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৩১২ রানে গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। অপরদিকে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় পাকিস্তান। দলীয় ১০১ রানে মধ্যে পাঁচ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় সফরকারীরা। তবে ষষ্ট উইকেটে সৌদ শাকিলকে সঙ্গে নিয়ে দলের হাল ধরেন আগা সালমান। এর মধ্যে দিয়ে ১৭৭ রানের জুটি গড়ে চাপ সামাল দেন এই দুই তারকা। শ্রীলঙ্কার মাটিতে এমন ইনিংস খেলতে যেয়ে প্রথম পাকিস্তানি ক্রিকেটার হিসেবে অনন্য রেকর্ড গড়েছেন শাকিল।
শ্রীলঙ্কার স্পিনার ধনঞ্জয় ডি সিলভার বলে পয়েন্ট এলাকায় শট খেলেই মাথা থেকে হেলমেট খুলে ফেললেন তিনি। তার পর দুই হাত বাড়িয়ে সাজঘরের দিকে তাকালেন। সাজঘরে তখন হাততালি দিচ্ছেন পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজমসহ বাকি ক্রিকেটারেরা। প্রথম ইনিংসে পিছিয়ে পড়ার হাত থেকে দলকে বাঁচিয়েছেন তিনি। উল্টা প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানকে ১৪৯ রানের বড় লিড এনে দিয়েছেন সাউদ শাকিল। তার অপরাজিত ২০৮ রান ভরসা দিয়েছে দলকে। অথচ ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তানের হয়ে অভিষেক হয়েছে তার। আর মাত্র ছয়টি টেস্টেই সুনীল গাওস্করের মতো ক্রিকেটারের নজির ছুঁয়ে ফেলেছেন শাকিল।
দেরিতে অভিষেক হলেও পাকিস্তান ক্রিকেটে শাকিল অপরিচিত নাম নন। ২০১৪ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অধিনায়ক ছিলেন তিনি। ছয় ম্যাচে ১২৭ রান করেছিলেন। পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটেও ভালো খেলেছেন। ২০১৮ সালে কায়েদ ই আজম ট্রফিতে সব থেকে বেশি রান করেছিলেন। কিন্তু তার পরও জাতীয় দলে সুযোগ পাননি। ২০২১ সাল থেকে পাকিস্তান দলে থাকলেও প্রথম একাদশে সুযোগ পেতে ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল তাকে। কিন্তু একবার অভিষেকের পর থেকে আর আটকানো যায়নি তাকে।
পাকিস্তানের হয়ে ছয়টি টেস্টে ৭৮৮ রান করেছেন শাকিল। ৯৮.৫০ গড়ে রান করেছেন তিনি। ছয়টি টেস্টেই অন্তত একটি করে অর্ধশতরান করেছেন তিনি। এর আগে এই কীর্তি ছিল ভারতের সুনীল গাভাস্কার, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাসিল বুচার, পাকিস্তানের সাঈদ আহমদ ও নিউ জিল্যান্ডের বার্ট সুটক্লিফের। সেই তালিকায় পঞ্চম নাম শাকিল। এর আগের টেস্টে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নিজের প্রথম শতরান করেছিলেন তিনি। এবার দ্বিশতরান এলো তার ব্যাট থেকে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত