দেশে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ বাড়াতে সরকারি পর্যায়ে ওমান থেকে বছরে ২৪ কার্গোর সমপরিমাণ পর্যন্ত এলএনজি আমদানি করা হবে; আগামী ১০ বছরে আনা হবে মোট ১ দশমিক ৫ এমটিপিএ (মিলিয়ন টন পার এনাম) এলএনজি।
সোমবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বিপুল পরিমাণ এই এলএনজি কিনতে ওমানের একটি কোম্পানির সঙ্গে ১০ বছর মেয়াদী চুক্তি করেছে পেট্রোবাংলা। প্রথম বছরে চার এবং পরের দুই বছর ১৬ কার্গোর পর ২০২৯ সাল থেকে এলএনজি আসবে ২৪ কার্গো করে বলে ঢাকায় চুক্তি সই অনুষ্ঠানে জানানো হয়।
জি টু জি ভিত্তিতে ২০২৬ সাল থেকে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত অতিরিক্ত শূন্য দশমিক ২৫ থেকে ১ দশমিক ৫ এমটিপিএ এলএনজি কেনার এ চুক্তি সই হয়। এতে পেট্রোবাংলার বোর্ড সচিব রুচিরা ইসলাম এবং ওমানের ওকিউ ট্রেডিং লিমিটেড (আগের নাম ওমান ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল) র নির্বাহী পরিচালক সাইদ আল মাওয়ালী সই করেন।
গ্যাস স্বল্পতায় চাহিদা মেটাতে ২০১৮ সালে করা প্রথম চুক্তির আওতায় বর্তমানে ওমান থেকে বছরে এক এমটিপি (১৬ কার্গো) এলএনজি আমদানি করছে বাংলাদেশ।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কাতার থেকেও দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির আওতায় এলএনজি আনা হচ্ছে। এর বাইরে স্পট মার্কেট (খোলা বাজার) থেকেও এলএনজি কিনছে সরকার।
কাতারের সঙ্গে বিদ্যমান দুটি চুক্তির আওতায় ৩ দশমিক ৫ থেকে ৪ এমটিপিএ এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে।
আজকের চুক্তি সই অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ওমানের সঙ্গে করা চুক্তির আওতায় এলএনজি আসা শুরু হবে তিন বছর পর অর্থাৎ ২০২৬ সাল থেকে; ওই বছর আসবে চার কার্গো। এর পরের দুই বছর প্রতিবছর ১৬ কার্গো করে এবং ২০২৯ হতে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ২৪ কার্গো এলএনজি আনা হবে। সব মিলিয়ে ১০ বছর মেয়াদি এ চুক্তির আওতায় ১ দশমিক ৫ এমটিপিএর সমপরিমাণ এলএনজি আমদানি করা হবে।
বর্তমানে বঙ্গোপসাগরে স্থাপিত দুটো ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে ৬ দশমিক ৫ এমটিপিএ এলএনজি জাতীয় গ্রিডে যোগ করার সুযোগ রয়েছে। এ হিসাবে আরও ২ দশমিক ৫ থেকে ৩ এমটিপিএ এলএনজি আমদানি করা যেতে পারে।
এছাড়া মহেশখালীতে তৃতীয় এবং পায়রায় একটি টার্মিনাল স্থাপনে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত