
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলা হাসপাতালে প্রেরিত একটি কারণ দর্শানোর নোটিশে সিভিল সার্জন প্রেরিত চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে ‘মিথ্যা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, সিভিল সার্জনের দপ্তর খুলনা’। হাসপাতালে কর্মরত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) জ্যোতির্ময়ী বরাবরে চিঠিটি লেখা হয়েছে। যার স্মারক নম্বর সি, এস, কে/শা ১-২০২৬/৯৪০ তারিখ ১৩/০৫/২০২৬। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিঠি সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ মে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) একটি প্রতিনিধিদল বটিয়াঘাটা উপজেলার ইপিআই স্টোর পরিদর্শনে গিয়ে স্টক রেজিস্টারে একাধিক অসংগতি খুঁজে পায়। প্রায় দুই মাস ধরে স্টক রেজিস্টার হালনাগাদ না করা, ব্যবহৃত ভায়ালের (টিকার শিশি) সঙ্গে তথ্যের গরমিল এবং হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইনের হিসাবেও অসংগতির অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া কোভিড-১৯ এর টাকা ভুয়া ভাউচার করে আত্মসাৎ করারও অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) জ্যোতির্ময়ীর বিরুদ্ধে।
অভিযোগ অনুযায়ী, কাগজপত্রে ১৩ হাজার ৫০০ জনকে টিকা প্রদানের তথ্য দেখানো হলেও ভায়ালের হিসাবের সঙ্গে তার মিল পাওয়া যায়নি। নথিপত্র অনুযায়ী যেখানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ ভায়াল ব্যবহারের কথা, সেখানে সরেজমিনে দেখা যায় মাত্র ৯০০ ভায়াল ব্যবহৃত হয়েছে এবং আরও ৫৮৬ ভায়াল স্টোরে মজুত রয়েছে। এতে প্রায় ৪ হাজার মানুষকে টিকা প্রদানের তথ্য মিথ্যা বলে প্রতীয়মান হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় সরকারি অর্থ অপচয় ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে রোববার থেকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ ওহিদুজ্জামান সত্যতা স্বীকার করে বলেন, চিঠিটি আমি দেখেছি। মিথ্যা গণপ্রজাতন্ত্রী সরকার লেখা রয়েছে। খুলনা জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মোছাঃ মাহফুজা খাতুন বলেন, আমার বহু কাগজে স্বাক্ষর করা লাগে। কি ভাবে এ ভুল হলো বুঝতে পারছি না। তবে এটা কম্পিউটার মিষ্টেক। পরে সংশোধন করে দেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমার কাছে বহু ফোন এসেছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত