সম্প্রতি কয়েকটি জেলা সম্মেলনে পুরনো নেতৃত্ব বহাল রেখেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সেই ধারাবাহিকতায় বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনেও পুরনো নেতৃত্বের ওপর আস্থা রেখেছে কেন্দ্র।
বুধবার (১৬ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সভাপতি পদে ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে জাহাঙ্গীর কবির টানা অষ্টমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ পেয়েছেন গোলাম সারোয়ার টুকু।
১৯৯২ সাল থেকে বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আছেন ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু ও জাহাঙ্গীর কবির। এই ৩০ বছরে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়েছে সাতবার। প্রতিবারই তারা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন।
বুধবার দুপুরে বরগুনা সার্কিট হাউজ ময়দানে জেলা আওয়ামী লীগের অষ্টম ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনিই নতুন কমিটি ঘোষণা করেন।
কমিটি ঘোষণার আগে দেওয়া বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের সম্মেলন প্রসঙ্গে বলেন, ‘আজ জেলা কমিটি হবে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার সময় দেখে দেখে নিজেদের লোক পকেটে ঢুকাবেন না। এটা হবে না। যারা যোগ্য, ত্যাগী, দুঃসময়ে পার্টিতে আছে তাদের গুরুত্ব দেবেন। মশারির মধ্যে মশারি খাটাবেন না। দলকে এক রাখবেন না। সুবিধাবাদী, চাঁদাবাজ, মাদকসেবী যেন এ দলের নেতা না হয়।’
এ সময় নিজ দলীয় কোনো কোনো নেতার সমালোচনা করে কাদের বলেন, ‘অনেক নেতা, কর্মীর চেয়ে নেতা বেশি এখন। নেতা আর নেতা। বিলবোর্ডের দিকে তাকাই আর ভাবি, ইনি তাহলে কে? সামনে দেখি এক রকম, বিলবোর্ডে দেখি আরেক রকম। কোনো কোনো ছবি আমার নিজেরটাও নিজে চিনি না। হায়রে বিলবোর্ড, শেখ হাসিনার ম্যাজিক; ডিজিটাল বাংলাদেশ। সেটার সুফল আপনারা পাচ্ছেন।’
সম্মেলন উদ্বোধন করেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক নিরীক্ষণ কমিটির সভাপতি সেরনিয়াবাত আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাসিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেনসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নারাণয়গঞ্জ ও টাঙ্গাইলে সম্মেলন হলেও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসেনি। ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগে সভাপতি বহাল আছেন, তবে পরিবর্তন হয়েছে সাধারণ সম্পাদক পদে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত