গাজীপুরের দক্ষিণ সালনা এলাকায় বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় বাড়িতে ঢুকে রাবেয়া আক্তার (২১) নামে এক কলেজছাত্রীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে গৃহশিক্ষকের বিরুদ্ধে। এসময় আহত হয়েছেন নিহতের মা ও ছোট বোন। তাদের উদ্ধার করে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ওই গৃহশিক্ষককে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
সোমবার (৮ মে) রাত ৮টার দিকে সিটি করপোরেশনের দক্ষিণ সালনায় এই ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিয়াউল ইসলাম। তবে বিষয়টি জানাজানি হয় মঙ্গলবার (৯ মে)।
নিহত রাবেয়া আক্তার ওই এলাকার আবদুর রউফের মেয়ে। আর অভিযুক্ত গৃহশিক্ষক সাইদুল ইসলাম ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার মহেশতারা গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিয়াউল ইসলাম বলেন, আবদুর রউফ তার ছোট দুই মেয়ে খাদিজা ও জান্নাতের কোরআন শিক্ষার জন্য অভিযুক্ত সাইদুল ইসলামকে গৃহশিক্ষক হিসেবে রাখেন। কোরআন পড়ানোর জন্য বাসায় যাওয়ার সুবাদে বড় মেয়ে রাবেয়াকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় সাইদুল। পারিবারিকভাবে প্রস্তাবে রাজি না হয়ে তাকে পড়ানোর জন্য নিষেধ করা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সাইদুল বিয়ের জন্য চাপ দেন এবং বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত শুরু করেন। বিষয়টি অভিযুক্তের বাবা-মাকে জানালে তারা তাকে ফিরিয়ে নেন।
রাবেয়া লেখাপড়ার পাশাপাশি সম্প্রতি তেলিপাড়া এলাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরি নেন। তার কর্মস্থলে আসা-যাওয়ার পথেও উত্ত্যক্ত করতে থাকেন সাইদুল। বিষয়টি তার বাবা-মাকে জানালে তারা তাকে উত্ত্যক্ত না করতে নিষেধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন সাইদুল।
সোমবার সন্ধ্যায় বাড়ির প্রধান গেট খোলা দেখতে পেয়ে ঘরে ঢুকে হাতে থাকা ছুরি দিয়ে রাবেয়ার মাথায়, গলায়, পায়ে ও হাতে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক আহত করেন অভিযুক্ত সাইদুল।
ওসি বলেন, রাবেয়ার চিৎকারে মা ও ছোট বোন দৌড়ে গেলে তাদেরও কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে প্রতিবেশীরা তাদের উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক রাবেয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওসি আরও বলেন, ঘটনার পর থেকে সাইদুল পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত