আজ শনিবার (৫ নভেম্বর) বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশ করবে বিএনপি। এর আগে বৃহস্পতিবার লঞ্চ এবং শুক্রবার ও শনিবার গণপরিবহন ধর্মঘট শুরু হওয়ায় আগেই ভোলা, ঝালকাঠি, বরগুনা, পিরোজপুর, পটুয়াখালী এবং বরিশাল জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে নগরীতে পরিবেশ করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশে যোগ দিতে বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রলার ও বালবাহী জাহাজ-বাল্কহেড শুক্রবার মধ্যরাতেও নগরীতে প্রবেশ করতে দেখা যায় বিএনপি নেতাকর্মীদের। রাতে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশে পৌঁছান দলটির নেতাকর্মীরা।
বরিশাল সমাবেশের তিন দিন আগে এসেছেন ভোলা পলিটেকনিক শাখা ছাত্রদল সভাপতি আরাফাত রহমান সুজন। তিনি ঢাকা মেইলকে জানান, সমাবেশের আগে সব ধরনের যানবাহন বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা তিন দিন পূর্বেই বরিশালে চলে এসেছি। কিন্তু তারপরেও পথে পথে অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও দুর্গতি ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এটা সাধারণ মানুষ মেনে নিতে পারছে না। খেটে খাওয়া মানুষরা খুবই কষ্ট দিন কাটাচ্ছে। এই অবস্থা থেকে যাতে বের হতে এবং বেগম খালেদা জিয়া নিঃশর্ত মুক্তি পান ও তারেক রহমান যাতে দেশে ফিরে আসতে পারেন সেজন্য এত কষ্টের পরেও সমাবেশে উপস্থিত হয়েছি।
বরিশালের আগুনঝরা উপজেলা থেকে এসেছেন বিএনপির সমর্থক কবির ফকির। তিনি বলেন, পূর্ব থেকে ঘোষণা করা হয়েছে সকল ধরনের যানবাহন বন্ধ থাকবে। এজন্য আমরা তিন দিন পূর্বে চলে এসেছি। পথে পথে নানান ধরনের বাজার সম্মুখীন হতে হয়েছে, তারপরও এসব বাধা অতিক্রম করে বিকল্প পথে বরিশাল নগরে এসেছি। আমি কোনো রাজনীতি করি না, কিন্তু বিএনপি’র সমর্থক হওয়ার কারণে দীর্ঘদিন জেলখাটতে হয়েছে। আমার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, কিন্তু এখন আমাদের রাজাকারের সন্তান বানানো হচ্ছে। আমরা এই অবস্থা থেকে মুক্তি চাই। আমরা ব্যালটের মাধ্যমে একটা ভোট দিতে চাই। সেই ভোটটা যেন আমরা নিরপেক্ষভাবে দিতে পারি। এছাড়া বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই; আমাদের আর কোনো দাবি নেই।
সমাবেশে এসেছেন ভোলার দৌলতখান থানা বিএনপি’র সিনিয়র সদস্য হারুন খান মাসুদ। তিনি জানান, যানবাহন লঞ্চ বন্ধ থাকবে এজন্য সমাবেশে তিন দিন আগে চলে এসেছি। তারপরেও প্রত্যেকটি মোড়ে মোড়ে লাঠি নিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দাঁড়িয়ে ছিল। আওয়ামী লীগ যখন বিরোধীদল ছিল তখন ১৭৩ দিন হরতাল পালন করেছিল। কিন্তু তার সঙ্গে তো এরকম আচরণ করা হয়নি। বিএনপির শান্তিপূর্ণ সমাবেশে আসতে পথে পথে নেতাকর্মীদের নানান ধরনের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে, বাধা দেওয়া হচ্ছে। সমাবেশ সফল করে বাড়ি ফিরব। এই দানব সরকারের হাত থেকে দেশকে উদ্ধার করব।
খুলনা, রংপুরের সমাবেশের মতো বরিশালের সমাবেশেও চিড়া, মুড়ি, চাল ও ডালসহ মাঠে পৌঁছেছেন তারা। ভোলা, চরফ্যাশন, মনপুরা, পটুয়াখালী, বরগুনা, কুয়াকাটাসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে পথে পথে বাধা উপেক্ষা করে আসেন এসব মানুষ।
চাল, ডাল, জ্বালানি তেল, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্যবৃদ্ধি, চলমান আন্দোলনে ভোলায় নুরে আলম, আব্দুর রহিম, নারায়ণগঞ্জে শাওন, মুন্সীগঞ্জে শহিদুল ইসলাম শাওন ও যশোরে আব্দুল আলিম হত্যার প্রতিবাদে বিভাগীয় শহরে এ কর্মসূচি হচ্ছে।
এর আগে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, খুলনা ও রংপুরে সমাবেশ করেছে বিএনপি। এছাড়াও আগামী ১২ নভেম্বর ফরিদপুর, ১৯ নভেম্বর সিলেট, ২৬ নভেম্বর কুমিল্লা, ৩ ডিসেম্বর রাজশাহী ও ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করবে দলটি।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত