অবশেষে দীর্ঘ নয় মাস পর পর্যটকদের জন্য বান্দরবানের দুয়ার খুলে দেওয়া হলো। আজ শুক্রবার (১৪ জুলাই) বান্দরবান জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে, রোয়াংছড়ি উপজেলায় নিষেধাজ্ঞা এখনো বলবৎ রয়েছে।
এর আগে গত ১৭ অক্টোবর থেকে এসব অঞ্চলে জঙ্গি সংগঠন কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) সন্ত্রাসী তৎপরতার বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ অভিযানের কারণে দেশে-বিদেশি পর্যটকদের যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে প্রশাসন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জেলার রুমা ও থানচি উপজেলায় দেশি–বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণ সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলো। পর্যটকদের দুর্গম এলাকায় ভ্রমণের আগে উপজেলা প্রশাসন থেকে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া খুবই দুর্গম এলাকায় পর্যটকদের যাতায়াতে নিরুৎসাহিত করা হয়।
এদিকে নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে বিভিন্ন উৎসবে দেশি–বিদেশি পর্যটক না আসার কারণে জেলার দুই শতাধিক হোটেল-মোটেল, পাঁচ শতাধিক পর্যটক গাইড ও পর্যটকবাহী গাড়ির চলকেরা কর্মহীন হয়ে পড়েন। তারা দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানান। অবশেষে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করায় ধন্যবাদ জানান তারা।
বান্দরবান হোটেল–মোটেল মালিক সমিতির অর্থ সম্পাদক রাজিব বড়ুয়া বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার প্রত্যাহার করায় আমরা খুশি, এবার পর্যটকেরা বান্দরবানে ভ্রমণে আসবে, ব্যবসাও কিছুটা চাঙা হবে।’
বান্দরবানের হোটেল হিল ভিউ এর ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) পারভেজ বলেন, সবচেয়ে বেশি পর্যটক থানচি ও রুমায় ভ্রমণ করে। এই দুই উপজেলায় ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার কারণে জেলায় পর্যটকদের ভ্রমণ ফের বাড়বে।’
প্রসঙ্গত, বান্দরবানে কুকিচিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) সন্ত্রাসী তৎপরতার কারণে গত বছরের অক্টোবর থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পর্যটক যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে প্রশাসন। সন্ত্রাসী তৎপরতার কারণে চলতি বছরে পাঁচ শতাধিক বম জাতিগোষ্ঠীর মানুষ ভারতের মিজোরামে আশ্রয় গ্রহণ করে। এ ছাড়া অন্য জাতিগোষ্ঠীর মানুষও নিজ বাড়ি ঘর ছেড়ে পালিয়ে অন্যত্র আশ্রয় গ্রহণ করে।
এ সময় বিভিন্ন উপজেলায় পাঁচ সেনা সদস্যসহ ১৬ জন নিহত হন। অপহরণের শিকার হয় অন্তত ২০ জন। ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা থাকায় বান্দরবানের পর্যটন ব্যবসায় বিরূপ প্রভাব পড়ে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত