
অভিনয় ভেতর থেকে আসতে হয়, তবেই দর্শকের হৃদয়ে পৌঁছানো যায়। ঠিক তেমনটির জন্য চরিত্রের প্রয়োজনে নিজেকে ভেঙে চুরমার করতে একটুও কার্পণ্য করেন না অভিনেত্রী নাজিফা তুষি। প্রতিটি চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরতে দিনের পর দিন ডুবে থাকেন গল্পের গভীরে। আর এ কারণেই পুরো সিনেমা যখন একদিকে ঝুঁকে পড়ে, তুষি তখন ভিন্নভাবে আলো ছড়িয়ে দর্শকদের সমানভাবে মুগ্ধ করে যান।
এবারের ঈদে তুষি অভিনীত ‘রইদ’ সিনেমাটি দেশের সিনেপ্লেক্সগুলোতে মুক্তি পেয়েছে। এটি পরিচালনা করেছেন মেজবাউর রহমান সুমন। এর আগে একই পরিচালকের ‘হাওয়া’ সিনেমায় বেদেনী ‘গুলতি’ চরিত্রে অভিনয় করে সবার মন জয় করেছিলেন তুষি। এবার ‘রইদ’ সিনেমায় তাকে দেখা গেছে এক পাগলি চরিত্রে, যা এরই মধ্যে দর্শক মহলে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।
প্রেক্ষাগৃহে সরাসরি দর্শকদের সঙ্গে কথা বলে সিনেমাটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। অনেকেই সিনেমাটির গল্প পুরোপুরি বুঝতে না পারলেও, এর অভিনয়ের ভূয়সী প্রশংসা করছেন। আবার কেউ কেউ এটিকে কেবলই ‘কার্নিভাল সিনেমা’ হিসেবে বিবেচনা করছেন। তবে তুষির অভিনয়ের প্রশংসা করে দর্শকদের একটি বড় অংশ জানান, তিনি এই সময়ের অন্যতম শক্তিশালী অভিনেত্রী।
নিজের সিনেমাটি দেখতে সোমবার (১ জুন) পরিবারসহ রাজধানীর উত্তরা সেন্টার পয়েন্টের স্টার সিনেপ্লেক্সে উপস্থিত হয়েছিলেন তুষি। সিনেমা দেখা শেষে তিনি বলেন, অভিনয় নিয়ে দর্শকের পাশাপাশি আমার পরিবারও অনেক খুশি। সিনেমাটি দেখে বাবা আমাকে দুটি উপদেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘তোমার অভিনয় ভালো হচ্ছে, তুমি অনেক ভালো কাজ করছ। তবে সবসময় পা যেন মাটিতে থাকে। জনপ্রিয়তা যেন কখনো তোমার ভেতরে অহংকার সৃষ্টি না করে। নিজের পারিশ্রমিক (রেমুনারেশন) হুট করে বাড়াবে না, সবার সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করবে।’ বাবার এই কথাগুলো মনে রেখেই আমি কাজ করে যাচ্ছি।
‘রইদ’ সিনেমায় নাজিফা তুষির বিপরীতে ‘সাদু’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান। এ ছাড়া অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আরও আছেন গাজী রাকায়েত ও আহসাবুল ইয়ামিন রিয়াদ। সিনেমাটির গল্প লিখেছেন মেজবাউর রহমান সুমন ও সেলিনা বানু মনি। যৌথভাবে চিত্রনাট্য লিখেছেন মেজবাউর রহমান সুমন, জাহিন ফারুক আমিন, সিদ্দিক আহমেদ এবং সুকর্ণ শাহেদ ধীমান। চমৎকার বিষয় হলো, এই সিনেমায় অভিনয়ের পাশাপাশি একটি গানে কণ্ঠও দিয়েছেন তুষি।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত