বিএনপি পুনর্গঠনের দাবি নিয়ে সাত বছর আগে থেকে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন কামরুল হাসান নাসিম। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া বিএনপিকে পুনর্গঠনের দাবি করা নাসিম আবারও তার কর্মীদের নিয়ে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছেন।
আগামী ২৬ নভেম্বর রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কার্যালয় অভিমুখে পুনর্গঠনের দাবিতে কর্মীরা যাবে বলে জানিয়েছেন কামরুল হাসান নাসিম।
এর আগে ২০১৫ সালের ৯ জানুয়ারি বিএনপি পুনর্গঠনের ডাক দেন নাসিম। ওই বছরের ১৭ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে রাজনীতির ভেতরে-বাইরে আলোচনার জন্ম দেন তিনি। পরবর্তী সময়ে নাসিম বিএনপির পাঁচটি অসুখ হয়েছে এমন দাবি করে নিজেকে কেবল ‘ওষুধওয়ালা’ বলে পরিচয় দেন।
এছাড়াও একাধিকবার বিএনপিকে নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে 'জনতার আদালত' বসিয়েছেন তিনি। আবার তার কর্মী সমর্থকরা নয়াপল্টন অভিমুখে রওনা হলেও প্রত্যেকবার বিএনপির নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়ে।
কামরুল হাসান নাসিম বলেন, বিএনপির মধ্যে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র সবার আগে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এরপর পাঁচটি অসুখ সারিয়ে দলকে জাতীয়তাবাদী হিসেবে প্রমাণ করতে হবে। অতঃপর বাংলাদেশকে উচ্চ আয়ের দেশ করার জন্য রাজনীতি করতে হবে। রাষ্ট্রের সেবক হওয়ার জন্য লড়াই করতে হবে। জনশ্রেণিকে তখন বলতে হবে, আমাদেরকে বেছে নাও।
এই নেতা বলেন, বিএনপি পুনর্গঠন জরুরি। কথিত সমাবেশ করার মধ্য দিয়ে নাশকতা করার প্রস্তুতি রুখতে হবে। আমি ভেবেছিলাম যে, তারা পাঁচটি অসুখ সারিয়ে অর্থবহ উদ্যোগে নিয়ে জনমানুষের দল হবে। না, একটি সমাবেশেও বাংলাদেশের জন্য তাদের কোনো বার্তা নেই। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব দণ্ডিত কোনো ব্যক্তিসত্তার কাছে থাকতে পারবে না। কাজেই উপর থেকেই দলের পুনর্গঠন করা জরুরি। কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সাফ কথা।
এবারের নয়াপল্টন যাত্রা নিয়ে তিনি বলেন, ২৬ নভেম্বর বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় অভিমুখে দলের ক্রান্তিকালীন সদস্যরা যাবে। ঘোষণা করছি। বিএনপিকে মানুষের জন্য রাজনীতি করতে হবে। কী কী করতে চায় বাংলাদেশের জন্য তা স্পষ্ট করেই নেতাদের রাজনীতি করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধ শক্তিকে ছাড়তে পারছে কি না স্পষ্ট করতে হবে। নাশকতা নয়, বুদ্ধিবৃত্তিক রাজনীতির মাধ্যমে দলকে পরিচালনা করতে হবে। বিদেশি শক্তির ওপর নির্ভরশীলতা নয়, জনস্বার্থ উদ্ধার করেই রাজনীতি করতে হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত