বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ উদার দেশ মন্তব্য করে এদেশের অবকাঠামো, জ্বালানি ও পরিবহন খাতে বিনিয়োগ করতে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সফরের তৃতীয় দিন বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ-ভারত ব্যবসায়িক ফোরামের বৈঠকে অংশ নিয়ে শেখ হাসিনা এই আহ্বান জানান।
ভারতীয় ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশের দিকে আরও মনোযোগ দেওয়া এবং এর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সস্তা খরচ এবং বিপুল ভোক্তার সুবিধা নেওয়ার সময় এসেছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দুই দেশের ব্যবসায়ীদের আরও ঘনিষ্ঠ হওয়া এবং আমাদের জনগণের পারস্পরিক সমৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য যথাযথ ভূমিকা পালন করা উচিত। এর মাধ্যমে আমরা এ অঞ্চলে সমৃদ্ধি ও শান্তি আনতে সক্ষম হব।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভারতীয় বিনিয়োগকারী এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো সময় ও খরচ কমিয়ে বাই-ব্যাক ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশে শিল্প স্থাপন করতে পারে। দ্বিমুখী বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সুবিধা অর্জনে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্প্রদায় এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করে সহযোগিতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।’
বাংলাদেশের সরকারপ্রধান বলেন, গত ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশে মোট বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে ১৩৭০ দশমিক ৩৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যেখানে ভারত থেকে এসেছে মাত্র ১৫ দশমিক ৭৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ ১ দশমিক ১৫ শতাংশ।
বিনিয়োগে বাংলাদেশের উদার নীতির কথা তুলে ধরে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘ব্যাপক সুযোগ-সুবিধা, আকর্ষণীয় প্রণোদনা নীতি এবং ধারাবাহিক সংস্কারসহ এই অঞ্চলে বাংলাদেশের রয়েছে সবচেয়ে উদার বিনিয়োগ নীতি।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বৃহত্তর লাভের জন্য বাংলাদেশ-ভারত সহযোগিতাকে বাণিজ্যে বাইরে নিয়ে যাওয়া উচিত। এতে বিনিয়োগ, অর্থ, পরিষেবা, প্রযুক্তি স্থানান্তর অন্তর্ভুক্ত করা উচিত এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রেক্ষাপটে স্থাপন করা উচিত।’
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যেকার বিদ্যমান গভীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভারত বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পর্যটক ও চিকিৎসা রোগী পায় এবং হাজার হাজার ভারতীয় শ্রমিক বাংলাদেশে কাজ করছে। তারা উভয় দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে।’
সফরের কর্মসূচি হিসেবে আজ বিকেলে মুজিব স্কলারশিপ প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী শহীদ এবং যুদ্ধাহত ভারতীয় সৈনিকদের পরিবারের সদস্যদের স্কলারশিপ দেওয়া হবে।
এর আগে আজ সকাল সাড়ে নয়টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ভারতের কেন্দ্রীয় পর্যটনমন্ত্রী জি কিষান রেড্ডি। সাক্ষাতে দুই দেশের বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেন তারা।
পি এস / এন আই
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত