বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রের ক্ষতিগ্রস্ত কূপটি এখনও শনাক্তের চেষ্টা চলছে জানিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা পেট্রোবাংলা বলছে, মঙ্গলবারের (৫ এপ্রিল) মধ্যে ছয়টি কূপের অন্তত তিনটির উৎপাদন স্বাভাবিক হবে। কূপ থেকে গ্যাসের সঙ্গে কেনো বালি এলো, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে বলে দাবি সংস্থাটির।
একই সঙ্গে ৭ এপ্রিল নাগাদ আমদানি করা এলএনজি দেশে পৌঁছালে রমজানে গ্যাসের সংকট হবে না বলেও আশ্বস্ত করছে সরকার। এদিকে গ্যাসের অভাবে ব্যাপকভাবে ক্ষতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও; বন্ধ রয়েছে অন্তত ২৬টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
দেশের অন্যতম বড় গ্যাসক্ষেত্র হবিগঞ্জের বিবিয়ানা। মার্কিন কোম্পানি শেভরন এ ক্ষেত্রটি থেকে গ্যাস উত্তোলন করে আসছে দীর্ঘদিন থেকেই। প্রতিদিন ১ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এখান থেকে যোগ করা হয় জাতীয় গ্রিডে।
গত শনিবার (২ এপ্রিল) রাত থেকে এ ক্ষেত্রটির ২৬টি কূপের মধ্যে ৬টি কূপে হঠাৎ সমস্যা দেখা দেয়। সূত্র জানিয়েছে, গ্যাসের সঙ্গে বালি উঠতে থাকায় বন্ধ হয়ে যায় কূপগুলোর উৎপাদন। আর এতেই রমজানের শুরুতেই ভয়াবহ গ্যাস সংকটের কবলে পড়তে হয়েছে দেশবাসীকে। কেননা ৪২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কম পাওয়া যাচ্ছে জাতীয় গ্রিডে।
সোমবারও (৪ এপ্রিল) রাজধানীর বেশকিছু এলাকায় গ্যাস সংকটের খবরের সত্যতা পাওয়া যায়। তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদের রাষ্ট্রায়ত্ব নিয়ন্ত্রক সংস্থা পেট্রোবাংলা বলছে, এখনো শনাক্ত করা যায়নি ঠিক কোন কূপ থেকে বালি উঠছে। তবে মঙ্গলবারের মধ্যে অন্তত তিনটি কূপ সচল হওয়ার আশা তাদের।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান বলেন, আমরা যে তিনটি কূপ পরিস্কার পেয়েছি সেই তিনটি কূপ মূলত অপারেশনে আসতেছে আজ রাত পর্যন্ত। ধারণা করা হচ্ছে একটি বা দুটি থেকে বালি আসছে। বালির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই আমরা বলতে পারব যে ওই একটি কূপ কবে নাগাদ ঠিক হবে। আমরা চেষ্টা করছি, সরকার চেষ্টা করছে যে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে কূপটি ঠিক করে আবার যেন গ্যাস সরবরাহ আগের পর্যায়ে নিয়ে আসা যায়।
বিবিয়ানা কবে থেকে পূর্ণ উৎপাদনে সক্ষম হবে, সে ব্যাপারে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে না পারলেও পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান বলছেন, ৭ এপ্রিল নাগাদ আমদানি করা তরলিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি এলে পুরো মাসেই আর সংকট হওয়ার কথা নয়।
নাজমুল আহসান বলেন, এলএনজিতে এ মাসে আমাদের মোট ৮টি কার্গো আসবে। আমরা ৮০০-৮২০ পর্যন্ত আমাদের গড়ে সরবরাহ হবে এলএনজি থেকে। এ মাসের জন্য এ টার্গেটটি নিয়ে আমরা।
এদিকে গ্যাসের সংকটে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনও। বেশকিছু জায়গায় লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া গেলেও বিদ্যুতের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা পিডিবির চেয়ারম্যান এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
পেট্রোবাংলার দৈনিক উৎপাদন ও বিতরণ রিপোর্ট বলছে, গ্যাসের অভাবে ছোট-বড় অন্তত ২৬টি পাওয়ার প্ল্যান্ট বন্ধ রাখতে হয়েছে।
পিএসএন/এমঅাই
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত