সময়ের বিবর্তনে সেই ঐতিহ্যবাহী ভেসাল দিয়ে মাছ ধরা এখন তেমন একটা চোখে পড়ে না। বলা চলে ভেসাল দিয়ে মাছ ধরা এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। এরপরও গ্রামের দু-একটি জায়গায় মাঝেমধ্যে ভেসাল দিয়ে মাছ ধরতে দেখা যায়। ভেসাল জালকে বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন নামে ডাকা হয়। বৃহত্তর ময়মনসিংহ এলাকায় বলা হয় খরা জাল। দক্ষিণাঞ্চলে টেকজাল, বেগজাল, বেয়াল জাল ইত্যাদি। আবার কোথাও ডাকা হয় টোঙ্গা ও বেহাইল নামে।
একটা সময় দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোর গ্রামে খালে বর্ষা মৌসুম জুড়ে ভেসাল দিয়ে মাছ শিকার করতে দেখা যেতো মৎস্যজীবীদের। ঝাঁক বেধে উঠতো নানা জাতের দেশীয় প্রজাতির মাছ।প্রাকৃতিক জলাশয়ের মাঝে কোথাও কোথাও পুঁতে রাখা বাঁশের মাঝে টাঙানো জাল। জালের পাশেই বাঁশ দিয়ে বানানো ছোট একটি মাচাং। আশপাশে কোথাও খুঁটিতে বেধে রাখা ডিঙি নৌকা। এতসব আয়োজন কেবল মাছ ধরার জন্য। বিশেষ ধরনের এই মাছ শিকারের ব্যবস্থাকে বলা হয় ‘ভেসাল’।
প্রতিদিন ভোরে ভেসাল দিয়ে মাছ ধরা শুরু করে দুপুরের দিকে এক-দেড় ঘণ্টার বিরতি নেন তারা। এরপর টানা রাত ৯-১০ টা পর্যন্ত চলে মাছ ধরা। ভেসালে ওঠা মাছ বিক্রি করেন পার্শ্ববর্তী হাট-বাজারে।
২০ বছর ধরে ভেসাল দিয়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করছেন খুলনা জেলাধীন তেরখাদা উপজেলার মধুপুর গ্রামের আবু বক্কর (৬৫)। মাছ এখন কম পেলেও ২০ বছরের অভ্যাস কোনোমতেই ছাড়তে পারছেন না। বর্ষার শুরুতে খালে পানি এলেই তিনি ভেসাল দিয়ে মাছ ধরা শুরু করেন। প্রতিদিন ভোর থেকে ভেসালে মাছ ধরা শুরু করেন, দুপুরের দিকে এক থেকে দেড় ঘণ্টা বিরতি রাখেন। তারপর একটানা রাত ৯-১০টা পর্যন্ত চলে মাছ ধরা। ভেসালে ওঠা মাছ আশপাশের হাট-বাজারে নিয়ে বিক্রি করেন। স্থানীয় লোকজনও ভেসালের কাছে গিয়ে তরতাজা মাছ কিনে নেয়।
আবু বক্কর বলেন, ‘আমি নব্বই সালের দিকে যখন ভেসাল দিয়ে মাছ ধরা শুরু করলাম, তখন প্রচুর মাছ পেতাম। এখন খাল-বিলে পানি হয় না, ভেসালে মাছও ওঠে না। অন্য কাজ তো করতে পারি না। তাই আমি নিজে ভেসাল দিয়ে মাছ ধরি।
এন আই
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত