তীব্র তাপদাহে পুড়ছে দেশ। প্রচণ্ড গরমে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে জনজীবন। পবিত্র রমজানের মধ্যে এমন তাপদাহের কারণে মানুষের কষ্ট আরও বেশি হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না অনেকে।
স্বাধীনতার পর সর্বোচ্চ এই তাপদাহের মধ্যেও টানা কয়েকদিন দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড হয়েছে। কিন্তু এই রেকর্ডের মধ্যেও দেশের বেশকিছু অঞ্চলে ব্যাপক লোডশেডিং হচ্ছে। কিছু কিছু এলাকায় ৭-৮ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, চলমান তাপদাহের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে। এতে লোড বেশি পড়ছে। যার কারণে কিছু অঞ্চলে অনাকাঙ্ক্ষিত লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। বৃষ্টি হলে এই তাপপ্রবাহ কমে যাবে। তখন আর লোডশেডিং হবে না।
তীব্র তাপদাহ ও রোজার মাসে লোডিশেডিং দেওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষকে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে দেখা গেছে। এমনকি বিদ্যুৎ অফিসে হামলার মতো অনাকাঙ্খিত ঘটনাও ঘটেছে। গত রোববার ফেনীর ছাগলনাইয়ায় লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের অভিযোগ কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুর করেছেন স্থানীয় গ্রাহকেরা।
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে সোমবার (১৭ এপ্রিল) হবিগঞ্জ শহরে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ‘তরুণ যুব ও সচেতন নাগরিক সমাজ’। শহরের আরডি হল প্রাঙ্গণে এ প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে তারা বিক্ষোভ মিছিল করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নিমতলা কালেক্টরেট প্রাঙ্গণে গিয়ে জড়ো হয়। গ্রাহকদের অভিযোগ, প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর এক ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ নেওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে প্রতি ঘণ্টা ঘণ্টায় লোডশেডিং হচ্ছে।
বিদ্যুৎ না পাওয়ায় সিলেটে মধ্যরাতে সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয়রা। গত রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর নয়াসড়ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, বিদ্যুৎহীন অবস্থায় ইফতার ও তারাবির নামাজ পড়ে রাত ১১টার দিকে বাধ্য হয়ে তারা সড়ক অবরোধ করেন। তিন দিন ধরে সিলেটের সব এলাকাতেই চলছে চরম বিদ্যুৎ বিভ্রাট।
শুধু এসব অঞ্চলেই নয়, দেশের অনেক অঞ্চলেই তীব্র লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে উপজেলা-জেলা শহরগুলোতে প্রতিদিন তীব্র লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া যাচ্ছে। কোনো কোনো এলাকায় ৭-৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুতের দেখা মিলছে না।
যদিও বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) রাত ৯টায় দেশে ১৫ হাজার ৬২৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে রেকর্ড। এর আগে সোমবার (১৭ এপ্রিল) বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড ছিল ১৫ হাজার ৬০৪ মেগাওয়াট। তার আগে ১৩ এপ্রিল ১৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাইলফলক অর্জন করে।
রেকর্ড পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরও কেন লোডশেডিং হচ্ছে জানতে চাইলে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) পরিচালক (জনসংযোগ) শামীম হাসান ঢাকা মেইলকে বলেন, প্রচণ্ড তাপদাহের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। এইসময় মানুষ প্রচুর ফ্যান-এসি ব্যবহার করছে। যার কারণে লোড বেশি পড়ছে। এ কারণে কিছু এলাকায় লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই তাপদাহ কমলেই অথবা সামান্য বৃষ্টি হলেও বিদ্যুতের চাহিদা কমে যাবে। গতকাল সিলেটে যে বৃষ্টি হয়েছে এই ধরনের একটু বৃষ্টি হলেই তখন আর লোডশেডিং দেওয়া লাগবে না।
দেশে রেকর্ড পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরও লোডশেডিং হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। মঙ্গলবার তিনি দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এ বছর গ্রীষ্ম, সেচ মৌসুম ও রোজা একসাথে হওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌছবে সেটা আমরা আগেই ধারণা করেছিলাম। কিন্তু গত ৫০ বছরের তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙ্গে বর্তমানে যে নজিরবিহীন দাবদাহ চলছে তাতে ধারণার চেয়েও বিদ্যুতের চাহিদা অনেক বেশি বেড়ে গেছে। ফলে দেশের অনেক জায়গায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের প্রচণ্ড কষ্ট হচ্ছে। শিগগিরই বিদ্যুতে স্বস্তিদায়ক পরিবেশ ফিরে আসবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে দেশের অধিকাংশ অঞ্চলেই বৃষ্টির সুখবর দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বুধবার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম এবং সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। আগামী তিন দিনে আরও বেশি বৃষ্টিপাত হবে এবং এর প্রবণতা বাড়তে থাকবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত