সুদানের আধা-সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) প্রধান মোহাম্মদ হামদান হেমেডটি বলেছেন, লড়াই বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কোনো আলোচনায় যাবেন না তিনি।
উত্তর আফ্রিকার দেশটির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইরত এই জেনারেল হেমেডটি অভিযোগ করে বলেন, তিন দিনের যুদ্ধবিরতির সময় তার যোদ্ধাদের ওপর নির্বিচারে বোমাবর্ষণ করা হয়েছে।
সুদানের সেনাপ্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল বুরহানকে চলমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী করে বলেন, আমরা সুদানকে ধ্বংস করতে চাই না।
এর আগে বৃহস্পতিবার প্রতিবেশী দেশগুলোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জাতিসংঘের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল।
মোহাম্মদ হামদান হেমেডটি বলেছেন, তিনি আলোচনায় রাজি। কিন্তু শর্ত হলো যুদ্ধবিরতি মানতে হবে। শত্রুতা বন্ধ করুন। এরপরেই আমরা আলোচনায় বসতে পারি।
তিনি বলেন, জেনারেল বুরহানের সাথে তার কোনো ব্যক্তিগত সমস্যা নেই। তবে তিনি দেশটির ক্ষমতাচ্যুত শাসক ওমর আল বশিরের অনুগতদের সরকারের নিয়ে আসার অভিযোগ করে জেনারেল বুরহানকে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে উল্লেখ করেন।
২০২১ সালে তিনি ও জেনারেল বুরহান ক্ষমতা ভাগাভাগির একটি চুক্তি বাতিল করে দিয়েছিলেন। কার্যত দেশটিতে বেসামরিক শাসন ফিরিয়ে আনা বিশেষ করে হেমেডটির এক লাখ সদস্যের শক্তিশালী আরএসএফকে সেনাবাহিনীতে নিয়মিতকরণের সময়সীমা নিয়ে তাদের মধ্যে সমঝোতা ভেঙে পড়েছিল।
হেমেডটি, আমি আজকেই বেসামরিক সরকার পেতে চাই, আগামীকাল নয়। একটি পূর্ণ বেসামরিক সরকার। এটাই আমার নীতি।
আরএসএফ প্রধানের গণতন্ত্রের প্রতি এমন অঙ্গীকার প্রকাশ নতুন কোনো বিষয় নয়। যদিও বিশ্লেষকরা অতীতে গণআন্দোলন দমাতে এই বাহিনীকে নিষ্ঠুরভাবে ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করে থাকেন।
হেমেডটি বলেন, আরএসএফ যোদ্ধারা সেনাবাহিনীর সৈন্যদের শত্রু নয়। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, তারা গত ত্রিশ বছরের সরকারের ধ্বংসাবশেষ থেকে সুদানকে রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছিলেন। আমরা আপনাদের বিরুদ্ধে লড়বো না। দয়া করে আর্মি ডিভিশনসে ফেরত যান এবং আমরা আপনাদের বিরুদ্ধে লড়বো না।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত