ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ফুলবাড়িতে ট্রাক মালিকদের ডাকা আন্দোলনের কারণে দেশের একমাত্র চারদেশীয় বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে সীমিত পরিসরে রফতানি কার্যক্রম চলছে। হঠাৎ করেই আমদানি বন্ধ হওয়ায় ব্যবসায়ীসহ বন্দরসংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা পড়েছেন সংকটে। এতে করে রাজস্ব আয় হারাচ্ছে সরকার। এছাড়া বন্দর এলাকাতেও নেমে এসেছে স্থবিরতা।
বন্দরের ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের ছয় দিনের ছুটি শেষে ৩ জুলাই থেকে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম শুরু হয়। তবে বন্দরের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়নি। বাণিজ্যিক পণ্যগুলো কম পরিসরে আমদানি হচ্ছিল।
তারা আরও জানান, পাথর আমদানি হচ্ছিল কেবল মাত্র ভুটান থেকে। ভুটানে পাথর রফতানি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষুব্ধ ভারতীয় ব্যবসায়ী ও পরিবহন মালিকরা। বুধবার সকালে গমের ভুষির পাঁচটি ট্রাকে ১০০ মেট্রিক টন আমদানি হওয়ার পর থেকেই আমদানি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
ফুলবাড়ি বর্ডার লোকাল ট্রাক ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারকে বিভিন্ন দাবিদাওয়া সংবলিত চিঠি দেওয়া হয়।
এমনকি একই দাবিতে বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানি বন্ধ করে দেয় তারা। ভুটানের গাড়িগুলোকেও বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের অন্যতম দাবি হলো ভারতীয় রপ্তানির প্রতিটি ট্রাকে আকার অনুযায়ী একটি অ্যাপসের মাধ্যমে তিন হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে স্লট বুকিং বাবদ আদায় করে রাজ্য সরকার। কিন্তু ভুটানের কোনো গাড়ি থেকে এই টাকা নেওয়া হয় না। ভারতীয় ট্রাকের মতো ভুটানের ট্রাকগুলোকেও স্লট বুকিংয়ের আওতায় আনার দাবিতেই ফুলবাড়ি বর্ডার লোকাল ট্রাক ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের আমদানি বন্ধ করে দেয়।
সরে জমিনে গিয়ে দেখা যায়, আমদানি বন্ধ হওয়ায় পুরো বন্দরে ভূতুড়ে অবস্থা তৈরি হয়েছে। শূন্য ইয়ার্ড, নেই শ্রমিকদের কোলাহল। কাজ না পাওয়ায় শ্রমিকরা বেকার হয়ে অলস সময় পার করছেন। ওপারে পণ্যবাহী বিভিন্ন ট্রাক আটকা পড়ায় সংকটে পড়েছেন ব্যবসায়ীরাও। কবে নাগাদ এই সংকটের সমাধান হবেও তাও নিশ্চিত হতে পারছেন না তারা।
ব্যবসায়ী সূত্রে জানা যায়, ভারতের চেয়ে অনেক কম দরে ভুটান থেকে পাথর আমদানি করেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা। এ কারণে ভুটানের আমদানি কার্যক্রমে অসন্তুষ্ট ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। ভারতের প্রতি ট্রাকে ৩০ মেট্রিক টন পাথর পরিবহন করা গেলেও ভুটানের প্রতি ট্রাকে ১৫ মেট্রিক টনের বেশি পরিবহন করতে দেয় না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
আমদানিকারক সোহেল রানা মানিক বলেন, ভারতের ফুলবাড়ির কিছু ব্যবসায়ী ও পরিবহন মালিক বাংলাদেশে আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে। বিশেষ করে পাথর আসতে দিচ্ছে না। তারা তাদের মতো ভুটানের ট্রাকগুলো থেকেও স্লট বুকিংয়ের টাকা নেওয়ার দাবি করছে। আমদানি বন্ধ হওয়ায় আমাদের ট্রাকগুলো আটকা পড়ে আছে। এখানে শ্রমিকরা বসে আছে।
বাংলাবান্ধা ল্যান্ডপোর্ট লিমিটেডের ইনচার্জ আবুল কালাজ আজাদ বলেন, বুধবার বাংলাবান্ধায় ২২ ট্রাক পণ্য রফতানি হয়েছে। পাঁচ ট্রাক গমের ভুষি আমদানি হওয়ার পরেই আমদানি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। মূলত সমস্যাটা ভারতের ফুলবাড়িতে ব্যবসায়ী ও পরিবহন মালিকদের। তারা সরকারের সঙ্গে তাদের দাবিদাওয়া নিয়ে এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে। আমাদের এখানে কোনো সমস্যা নেই। শুনেছি তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করছে। আশা করি শিগগিরই এই সমস্যার সমাধান হবে। আমদানি বন্ধ থাকায় এখানে শ্রমিক কর্মচারীরা বসে রয়েছে। সরকারও রাজস্ব হারাচ্ছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত