ভারতে দ্রুত বাড়ছে জিডিপির আকার। গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের জুলাই ও সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশটির অর্থনীতি বেড়েছে আট দশমিক চার শতাংশ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গর্ব করে বলেছেন, ২০২২ সালে বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশে পরিণত হতে পারে ভারত। তবে দেশটির জিডিপির পুনরুত্থানের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বোলদেব কুমার নামের একজন নাগরিক মাথা গুটিয়ে হাসতে থাকেন। মঙ্গলবার (২৮ ডিসেম্বর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে জিডিপি সম্পর্কে যে তথ্য দেওয়া হচ্ছে তার ঠিক বিপরীত গল্প শোনালেন বোলদেব কুমার। চলতি বছরের নভেম্বরে তিনি যে দামে টমেটো, পিয়াজ ও অকরা কিনেছেন এখন তা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। ৪৭ বছর বয়সী এই মিস্ত্রি করোনা মহামারির শুরুর দিকে চাকরি হারান। এরপর তিনি যে মোটরের দোকানে চাকরি নেন সেটিও বন্ধ হয়ে যায় এ বছরের শুরুতে। এখন ডোমলুর বেঙ্গালুরু পাড়ায় একটি গাড়ির শোরুমে কাজ করছেন। ভারতজুড়ে মোটরগাড়ি বিক্রি কমে যাওয়ায় আবারও চাকরি হারানোর শঙ্কা করছেন তিনি।
এরই মধ্যে তিনি তার মেয়ের বিয়ের পরিকল্পনা স্থগিত করেছেন। কারণ খরচ বহন করতে পারবেন কি না তা নিশ্চিত নন। এর আগে তিনি তার কর্মস্থলে যেতেন বাসে। বর্তমানে কিছু রুপি সঞ্চয়ের জন্য প্রতিদিন পাঁচ কিলোমিটার হেঁটে কর্মস্থলে পৌঁছান। জিডিপির আকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা কোন ভারত সেটা আমি জানি না। তবে আমি যে ভারতে বসবাস করছি সে ভারত অর্থনৈতিকভাবে অনেক সংগ্রাম করছে।
এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ভারত। প্রকৃতপক্ষে দেশটির অর্থনীতি আবারও বাড়ছে। যা অধিকাংশ বড় দেশের চেয়ে দ্রুত। দেশটির প্রধান শেয়ারবাজারগুলোর সূচক ২০২১ সালের শুরুর দিকের তুলনায় বাড়ছে। যদিও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আবার হোঁচট খাচ্ছে। ইতিবাচক পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছেন অনেক অর্থনীতিবিদ। তবে কেউ কেউ আবার সংকটের কথাও জানিয়েছেন।
সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকোনমির তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের নভেম্বরে দেশটির মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে দাঁড়ায় ১৪ দশমিক ২৩ শতাংশে। যা দেশটির জনগণের ওপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। গত মাসে তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ে প্রায় ৪০ শতাংশ। শহরের বেকারত্বের পরিমাণও বাড়ছে। বর্তমানে যা নয় শতংশের উপরে পৌঁছেছে।
নয়াদিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষস্থানীয় উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ জয়তী ঘোষ বলেন, মুদ্রাস্ফীতি বাড়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দরিদ্ররা।
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনা মহামারি ভারতের ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোগকে ধ্বংস করেছে। জানা গেছে, এই খাত ভারতের জিডিপিতে ৩০ শতাংশ অবদান রাখে। তাছাড়া রপ্তানির আয়ের অর্ধেক অবদানও রাখছে এই খাতটি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার ডিসেম্বরে সংসদকে এক জরিপের তথ্য উল্লেখ করে জানায়, করোনাভাইরাসের কারণে সব এমএসএমইগুলোর মধ্যে নয় শতাংশ বন্ধ হয়ে গেছে। মে মাসে পরিচালিত অন্য এক জরিপে দেখা গেছে, ২০২১ সালের আগেই ছয় হাজারের বেশি এমএসএমইএস এবং অধিকাংশ স্টার্টআপসের দোকান বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
অর্থনীতিবিদ প্রণব সেন বলেন, এমএসএমইএস দীর্ঘকাল ধরে ভারতীয় শ্রমবাজারের মেরুদণ্ড। যেখানে ১১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। এইখাতের সংগ্রামের ফলেই ভারত বেকারত্বের হার কমাতে ব্যর্থ হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত