ভারতের মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে পানির পাইপ লিক হয়ে তা পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার সঙ্গে মিশে যায়। এতে চরম দূষিত পানি ব্যবহার করে অন্তত ৯ জন মারা গেছেন। রাজ্যের ইন্দোরের ভগীরথপুরায় রাস্তাঘাট এখন শুনশান। সেখানকার ২০০ জন বাসিন্দা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। অন্তত ২৭টি হাসপাতালে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন রোগীরা।
ভগীরথপুরার এই অসুস্থ মানুষরা দূষিত, কলুষিত পানি ব্যবহার করেছেন। তাই তাদের এই অবস্থা। তাদের বাড়িতে যে পানি আসে তার সঙ্গে মিশে গিয়েছিল পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার পানি। ফলে অসুস্থরা সমানে বমি করতে থাকেন। তাদের ডায়রিয়া হয়, প্রবল জ্বর হয়। তারা হাসপাতালে ভর্তি হন। মোট এক হাজার ৪০০ জনের শরীর খারাপ হয়েছিল। বর্তমানে অন্তত ২০০ জন হাসপাতালে আছেন।
অসুস্থরা সকলেই এই দূষিত পানি ব্যবহার করেছিলেন। ইন্দোরের চিফ মেডিকেল ও হেলথ অফিসার(সিএমএইচও) বলেন, চারটি মৃত্যুর ক্ষেত্রে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় দেখা গেছে তারা কলুষিত পানি ব্যবহার করেছিলেন। ভগীরথপুরায় পানির পাইপলাইনে একটি লিক হয়েছিল। সেখান দিয়েই পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার লাইনের পানি মিশে যায়।
জেলাশাসক শিবম বর্মা বলেছেন, ল্যাবরেটরির রিপোর্টে পানি দূষিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু কোন ব্যাকটেরিয়ার জন্য মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তা এখনো জানানো হয়নি।
ভগীরথপুরায় গত সোমবার থেকে মানুষ পেটখারাপ, বমি ও জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে শুরু করেন। স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন, ভগীরথপুরায় স্থানীয় পুলিশ চেক পোস্টে টয়লেট তৈরি হয়েছিল। সেখানকার বর্জ্য পানির পাইপলাইনে মিশে গেছে। সেখানে কনট্রাকটর সেপটিক ট্যাংক তৈরি করেনি, সরাসরি একটি গর্তে নিকাশী বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা করে। সেখান থেকেই পাইপলাইনের পানির সঙ্গে দূষিত পানি মিশে গেছে।
রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব সঞ্জয় দুবে বলেছেন, মোট ৯ জন মারা গেছেন। যাদের চিকিৎসা চলছে, তাদের ব্যয়ভার বহনের জন্য নির্দেশিকা তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যে মৃতদের পরিবারকে দুই লাখ টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, তারা পুরো পাইপলাইন চেক করেছেন। সব পরীক্ষার পর বৃহস্পতিবার থেকে আবার পানি সরবরাহ শুরু হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সবমিলিয়ে ২৭২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। ৭১ জন ছাড়া পেয়েছেন। ২০১ জন এখনও চিকিৎসাধীন।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত